স্বপ্নের আমেরিকায় বাঙালি কমিউনিটিতে পরকীয়ার আগ্রাসন

বয়সের ব্যবধান, শিক্ষাগত বৈষম্য, কালচারাল বিরোধ এবং পেশা নিয়ে মিথ্যাচারের জের হিসেবে সংসার ভেঙে যাচ্ছে। ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কারণে পারিবারিক বিরোধ চরমে উঠছে। পারস্পরিক অবিশ্বাস তছনছ করে দিচ্ছে প্রবাস জীবনকে। স্বপ্নের আমেরিকা ভেঙে চুরমার হচ্ছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে বিয়ে করে নিয়ে যাওয়ার পরই ডিভোর্সের ঘটনা বেশি ঘটছে। গ্রীনকার্ড হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্ত্রী কেটে পড়ছেন। ঝগড়ার নাটক করে কেউ কেউ পুলিশ ডাকেন। আবার কেউ স্বামীর অজ্ঞাতে বাসা ছাড়ছেন। এসময় স্বর্ণালঙ্কার এবং নগদ অর্থ নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও রয়েছে। কোনো কোনো পরিবারে পারস্পরিক অবিশ্বাসের কারণে ভাঙন ধরেছে। স্বামী-স্ত্রী উভয়েই কর্মজীবী এমন পরিবারে পরকীয়ার অভিযোগ উঠলেই তা মারদাঙ্গা রূপ নিচ্ছে।

পুলিশ, জেল, জরিমানার পর তা গড়াচ্ছে ডিভোর্সে। সংসার ভাঙার ঘটনা বেশি ঘটছে সাম্প্রতিক সময়ে। ২০/২২ বছর সংসার করার পরও পারস্পরিক অবিশ্বাসের বলি হচ্ছেন অনেকে। এ সময় তারা এতটাই বেপরোয়া যে, স্কুল-কলেজগামী সন্তানের কথাও ভাবতে চাচ্ছেন না।

ডিভোর্সের প্রবণতা বেড়েছে অনেকের গ্রিনকার্ডের প্রত্যাশায়। যাদের স্ট্যাটাস নেই, তারা তালাকের মতো পরিস্থিতির শিকার হলে দ্রুততম সময়ে গ্রিনকার্ড পাওয়া যায়। তবে, গত দুই বছরে পুলিশ ডাকাডাকির যতগুলো ঘটনা ঘটেছে, তার সিংহভাগই সিটিজেন পরিবার। অর্থাৎ বৈধতার প্লট হিসেবে তারা মারদাঙ্গায় লিপ্ত হননি। প্রেমিক/প্রেমিকার সঙ্গে স্থায়ীভাবে বসতি গড়তেই চরম পরিস্থিতিতে ধাবিত হয়েছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, তালাকের শিকার পরিবারে স্বামীর চেয়ে স্ত্রীর আয় বেশি, স্বামীর চেয়ে স্ত্রীর শিক্ষাগত যোগ্যতা বেশি, স্বামীর চেয়ে স্ত্রী বেশি আধুনিক ছিলেন। অর্থাৎ সব সময় স্বামীকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা হতো। আর এ সুযোগে পরিচিতরা ওই স্ত্রীর সান্নিধ্য লাভে সক্ষম হন। শুরু হয় পরকীয়া। নগদ অর্থের ছড়াছড়ি করতেও কেউ কেউ পিছপা হয় না। পরিণতিতে যা হওয়ার তাই হচ্ছে।

অপরদিকে, অনেক পুরুষও কর্মস্থলে সহকর্মী অথবা চলতি পথে পরিচয় হওয়া সুন্দরী নারীর প্রতি আকৃষ্ট হন। স্ত্রীর অজ্ঞাতে ওই শ্রেণির নারীর সঙ্গে ক্রমান্বয়ে ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়েন। হোটেল-মোটেলের খরচ পোষায় না বলে সুযোগ বুঝে ঘরেই বেপরোয়া আচরণে লিপ্ত হন। গোপন কথাটি রয় না গোপনে। শুরু হয় কুরুক্ষেত্র।

ভয়ঙ্কর এ পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে নিউইয়র্কে বসবাসরত অ্যাডভোকেট শামীম আরা ডোরা বলেছেন, ডিভোর্সের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় আমেরিকান স্বপ্ন তছনছই শুধু হচ্ছে না, বাঙালির ভবিষ্যৎও বিপন্ন হতে বসেছে। এ ব্যাপারে এখনই সজাগ হওয়া জরুরি। বাঙালি সমাজ ব্যবস্থা নিয়ে ভিনদেশিদের মধ্যে যে উচ্চ ধারণা রয়েছে, তা অটুট রাখতে সবাইকেই সচেষ্ট থাকতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেনসাস ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে নিউইয়র্ক সিটিতে প্রতি হাজার দম্পতির মধ্যে গড়ে ১২.৯টি ভেঙে গেছে। নিউজার্সিতে এ হার ১২.৭।

বস্টন অধ্যুষিত  ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে ডিভোর্সের এ হার ১২.৩। হাওয়াইতে ১২.৬। সবচেয়ে বেশি হচ্ছে আরকানসাসে-২৩.৪ এবং আইডাহোতে ২১.৯। নেভাদায় ডিভোর্সের হার প্রতি হাজারে ২১.৩।