সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ পুরস্কার দক্ষ জনশক্তি গড়ার তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

    বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে দক্ষ জনশক্তি, অর্থাৎ নতুন প্রজন্মকে প্রতিযোগিতায় সক্ষম করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘বিশ্ব দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, বাংলাদেশকেও এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোতে হবে। আমরা সেভাবেই আমাদের শিশু-কিশোরদের গড়ে তুলতে চাই; শিক্ষাই তাদের বিকাশের একমাত্র চাবিকাঠি।’

    গতকাল রবিবার প্রধানমন্ত্রী তাঁর তেজগাঁও কার্যালয়ে দেশব্যাপী ‘সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ-২০১৮’-এর নির্বাচিত জাতীয় পর্যায়ের সেরা মেধাবীদের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

    শেখ হাসিনা বলেন, দেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত করে উন্নত ও সমৃদ্ধভাবে গড়ে তোলার মূল হাতিয়ার হলো শিক্ষা। কেউ যদি শিক্ষিত হয় তাহলে যেকোনো প্রতিকূল পরিবেশে সে টিকে থাকতে পারে। তিনি বলেন, ‘সবাইকে একটা কথাই বলব, শিক্ষাটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় সম্পদ। এর চেয়ে বড় সম্পদ আর কিছু না। এই সম্পদ কেউ কেড়ে নিতে পারবে না, ছিনতাই করতে পারবে না। শিক্ষাটা যদি থাকে জীবনটাকে সুন্দরভাবে পরিচালনা করা যায়।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের শিশুরাই একদিন সব কিছু পরিচালনা করবে। সেই সুযোগটাই আমরা সৃষ্টি করতে চাই। সেটাই আমাদের লক্ষ্য। আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন, জ্ঞান-বিজ্ঞানভিত্তিক একটি জাতি আমরা গড়ে তুলতে চাই। সে লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করছি।’

    সরকার ২০১৩ সাল থেকে দেশের সব বিভাগের স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে এই মেধা অন্বেষণ কর্মসূচি শুরু করে। এবার তিনটি বিভাগে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি, নবম থেকে দশম শ্রেণি এবং একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সাহিত্য, বিজ্ঞান, গণিত এবং কম্পিউটার—চারটি বিষয়ে দেশের সব বিভাগ ও জেলা পর্যায় থেকে নির্বাচিত শীর্ষ ১০৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে নির্বাচিত ১২ জনকে এদিন ‘মেধা অন্বেষণ-২০১৮’ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। পুরস্কার হিসেবে একটি ট্রফি, এক লাখ টাকার বৃত্তি এবং সনদপত্র প্রদান করা হয়। জাতীয় পর্যায়ের সেরা ১২ মেধাবী শিক্ষার্থী আজ ৯ জুলাই পাঁচ দিনের শিক্ষা সফরে তুরস্ক যাবেন বলেও অনুষ্ঠানে জানানো হয়। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বাকি ৯৬ জন শিক্ষার্থীর প্রত্যেককেও পুরস্কার হিসেবে পাঁচ হাজার টাকা এবং সনদপত্র প্রদান করেন।

    ডিজিটাল বাংলাদেশে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে আরো দক্ষ জনশক্তি প্রয়োজন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মহাকাশে বঙ্গবন্ধু-১ উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করেছি, যার মাধ্যমে সমগ্র বাংলাদেশে নেটওয়ার্কটা চালু হবে। সমুদ্র থেকে বাংলাদেশের সর্বত্র যোগাযোগ স্থাপনে আমাদের স্যাটেলাইট কাজ করবে। শিক্ষায়, স্বাস্থ্যসেবায় সব কিছুতেই অবদান রাখতে পারবে।’ তিনি বলেন, ‘সরকার পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র করছে, আরো জটিল এবং আধুনিক যন্ত্রপাতির সন্নিবেশ ঘটাচ্ছে, যেগুলো চালাতে ভবিষ্যতে অনেক দক্ষ জনশক্তির প্রয়োজন হবে।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ছেলে-মেয়েরা এত মেধাবী, আমি মনে করি, বিশ্বে বাংলাদেশের ছেলে-মেয়েরা সবচেয়ে বেশি মেধাবী। আমাদের ছেলে-মেয়েদের একটু সুযোগ করে দিলে তারা অত্যন্ত ভালো করে। আমাদের ছেলে-মেয়েদের আমরা সেভাবেই গড়তে চাই, যেন আগামী দিনে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিযোগিতায় তারা এগিয়ে থাকে।’

    শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এবং শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী (কারিগরি এবং মাদরাসা শিক্ষা) কাজী কেরামত আলী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক এবং উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন। মেধা অন্বেষণ-২০১৮-এর নির্বাচিত জাতীয় পর্যায়ের ১২ জন সেরা মেধাবীর পক্ষে মাহিন মুসতাসির ও সিরাতুল মুসতাকিম শ্রাবন্তী অনুষ্ঠানে নিজ নিজ অনুভূতি ব্যক্ত করেন। সূত্র : বাসস।