চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে পারভিন হত্যা মামলায় সিরিয়াল কিলার রসু খাঁসহ তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড আদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (০৬ মার্চ) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা জজ) আব্দুল মান্নান এ রায় দেন। রসু খাঁ ছাড়া অপর দুই মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হলেন- রসু খাঁর ভাগিনা জহিরুল ইসলাম ও একই বাড়ির ইউনুছ।
আসামি পক্ষের আইনজীবী হাবিবুল ইসলাম তালুকদার এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ‘ফ্যান চুরি করে ধরা খাওয়ার পরে পারভিন হত্যা মামলার মাধ্যমেই আলোচনায় আসেন রসু খাঁ। এর আগে ২০১৫ সালের ২২ এপ্রিল আলোচিত সাহিদা হত্যা মামলায় রসু খাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেন চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত।’

এ মামলার আসামি পক্ষের আইনজীবী ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ‘২০০৮ সালের ১৮ আগস্ট ফরিদগঞ্জের নানুপুর খালপাড়ে এনে ধর্ষণের পর খুন করা হয় খুলনার দৌলতপুরের সজলা গ্রামের সাহিদা বেগমকে। পরবর্তীতে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। এরপর চাঁদপুর মডেল থানার তৎকালীন এসআই নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই সময় মামলাটির তদন্ত সাপেক্ষে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়।

চুরির ঘটনায় ২০০৯ সালের ৭ অক্টোবর ঢাকার টঙ্গীর নিরাশপুর থেকে রসু খাঁকে আটক হয়। জিজ্ঞাসাবাদ করতে গিয়ে বেরিয়ে আসে সিরিয়াল কিলিংয়ের মতো চাঞ্চল্যকর তথ্য। একে একে ১১ জন নারীকে হত্যার ঘটনা স্বীকার করে রসু খাঁ। পরবর্তীতে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমিরুল ইসলামের কাছে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানন্দিতেও ১১ খুনের বর্ণনা দেন সে। জবানবন্দিতে সে জানায়, তার ইচ্ছা ছিল ১০১ নারীকে খুন করে সিলেট মাজারে গিয়ে সন্ন্যাসী হওয়ার।

রসু যাদের হত্যা করেছে তাদের প্রায় সব নারীই ছিল গার্মেন্টস কর্মী। রসু ভালবাসার অভিনয় করে নিম্নবিত্ত পরিবারের মেয়েদের ঢাকার সাভার ও টঙ্গি এলাকা থেকে চাঁদপুরে এনে প্রত্যন্ত এলাকায় নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করেছে। তার স্বীকারোক্তিতে ওইসব হতভাগ্য মেয়েদের অধিকাংশেরই সঠিক নাম ঠিকানা বা পরিচয় আজও জানা যায়নি।