কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসা নিতে আসবেন না। গত তিনদিন ধরে এখনো সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন তিনি। কারা কর্তৃপক্ষ খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউতে আনার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। এদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে বেসরকারি হাসপাতালে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার খরচ বহন করবে বলে সংবাদ সম্মেলন করে দল থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। খালেদা জিয়ার ভাই শামীম ইস্কানদার উন্নত চিকিৎসার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানিয়েছেন, খালেদা জিয়াকে সিএমএইচে ভর্তির প্রস্তাব দেবে। এতেও রাজি না হলে অন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গত সোমবার কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, খালেদা জিয়া যদি রাজি থাকেন তাহলে মঙ্গলবার সকালে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হবে। এর আগে গত রোববারও খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউতে আনার চেষ্টা হয়েছে। গত তিন ধরে রাজধানীর কেন্দ্রীয় কারাগার, পুরান ঢাকা, আলিয়া মাদ্রাসা চত্বরসহ আশপাশের এলাকায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছিলো। কেন্দ্রীয় কারাগার ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার ছিলো। সব ধরনের যান চলাচল শিথিল করা হয়েছে। বিএসএমএমইউর পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহ-আল-হারুন সাংবাদিকদের গতকাল মঙ্গলবার সকালে বলেছেন, খালেদা জিয়াকে বেলা ১১টায় স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে আনা হবে। কারা কর্তৃপক্ষ তাকে বিষয়টি জানিয়েছে। তারা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছেন বলে জানান তিনি। কিন্তু দুপুর পার হওয়ার পর স্পষ্ট হয় খালেদা জিয়া আজো হাসপাতালে আসছেন না। এমন পরিস্থিতিতে কারা মহাপরিদর্শক সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন সাংবাদিকদের বলেন, কারা বিধি অনুযায়ী কোনো বন্দিকে প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসার বিধান নেই। এখানে খরচেরও একটা ব্যাপার আছে। কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন আরও বলেন, ‘সকালে তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম বিএসএমএমইউতে যাবেন কি না? তিনি অনীহা প্রকাশ করেছেন। বলেছেন, ‘আমি ইউনাইটেড হাসপাতালে যাব।’ এই কারণে তাকে আজ বিএসএমএমইউতে নেওয়া হলো না। খালেদা জিয়াকে ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হবে কি না সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কারা বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খালেদা জিয়ার যে ধরনের চিকিৎসা প্রয়োজন তা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে আছে। তবে খালেদা জিয়াকে ইউনাইটেড হাসপাতালে নিতে হলে বিএনপির পক্ষ থেকে আবেদন করতে হবে। এরপর আমরা সেই আবেদন সিনিয়র কর্মকর্তাদের দেখাব। যদি অনুমতি মেলে তবে ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হবে’ বলেন কারা মহাপরিদর্শক। এরপরই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন খালেদা জিয়ার ভাই শামীম ইস্কানদার। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদনে খালেদা জিয়াকে ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। পাশাপাশি চিকিৎসার ব্যয় পরিবারের পক্ষ থেকে বহন করা হবে বলে জানিয়েছেন। শামীম ইস্কানদার আবেদনে বলেন, ‘আমার বড় বোন নাজিমউদ্দীন রোডের কারাগারে বন্দি রয়েছেন। তিনি বিভিন্ন অসুখে ভুগছেন। কিন্তু কারাগারে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাচ্ছেন না। খালেদা জিয়ার ৪ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক কারাগারে স্বাস্থ্য-পরীক্ষা করে জানান তার মাইল্ড স্ট্রোক হয়েছিল। এ ধরনের বিষয় বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির পূর্বাভাস বহন করছে।’ এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা বিজন কান্তি সরকারের নেতৃত্বে দুই চিকিৎসকসহ তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল আসেন সচিবালয়ে। তারা আবেদনের বিষয়ে কথা বলেন। তিনি এ সময় সাংবাদিকদের আবেদনটি পড়ে শোনান। এছাড়াও বেসরকারি হাসপাতালে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা খরচ বিএনপি বহন করবে বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন। দলের পক্ষ থেকে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী উপস্থিত ছিলেন।ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমরা দেশনেত্রীর উপযুক্ত চিকিৎসা চাই। আপনাদের (গণমাধ্যম) মাধ্যমে সরকারকে জানাতে চাই যে, প্রয়োজনে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার সমুদয় ব্যয় আমাদের দল বহন করবে। কাজেই কালবিলম্ব না করে তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হোক।’ এ ব্যাপারে লিখিত দাবি জানানো হবে কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘এরই মধ্যে খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটা লিখিত চিঠি দেওয়া হয়েছে। আমরাও আপনাদের মাধ্যমে