মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের দুদিন আগেই সিঙ্গাপুরে পৌঁছেছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। গতকাল রোববার সকালের দিকে উত্তর কোরিয়ার এ নেতা চাঙ্গি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছলে সেখানে তাকে স্বাগত জানান সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণ।এদিকে, কানাডায় জি-৭ বৈঠক শেষে ইতোমধ্যে সিঙ্গাপুরের পথে যাত্রা শুরু করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বহনকারী এয়ারফোর্স-ওয়ান বিমান। ট্রাম্পকে বহনকারী এ বিমান রোববার সিঙ্গাপুরের স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। আগামীকাল সিঙ্গাপুরের সেন্তাসা দ্বীপের ক্যাপেল্লা হোটেলে বহুল কাক্সিক্ষত বৈঠকে মিলিত হবেন এ দুই নেতা। বৈঠকে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের বিনিময়ে অর্থনৈতিক সহায়তার ব্যাপারে আলোচনা হতে পারে। সিঙ্গাপুরের সংবাদমাধ্যম চ্যানেল নিউজ এশিয়া বলছে, ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে কিমকে বহনকারী গাড়িবহর চাঙ্গি এয়ারপোর্ট ত্যাগ করেছে। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন সেন্তাসা দ্বীপের সেন্ট রেজিস হোটেলে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শাংগ্রি লা হোটেলে অবস্থান করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেন্তাসা দ্বীপকে ইতোমধ্যে স্পেশাল ইভেন্ট এরিয়া ঘোষণা করে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলেছে সিঙ্গাপুর। ট্রাম্প-কিমের ঐতিহাসিক এ বৈঠককে কেন্দ্র করে গতকাল রোববার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সিঙ্গাপুরের আকাশপথে ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এই সময় সিঙ্গাপুরগামী এবং সিঙ্গাপুর থেকে ছেড়ে আসা বিমানের ফ্লাইট বিলম্বিত হতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছে দেশটি। বিরল এ বৈঠকের সংবাদ সংগ্রহ করতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রায় আড়াই হাজার সাংবাদিক ইতোমধ্যে সিঙ্গাপুরে পৌঁছেছেন। গতকাল রোববার রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে সিঙ্গাপুরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বহনকারী এয়ারফোর্স-ওয়ানের একটি বিমান। আজ সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি সেইন লুংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউস বলছে, সিঙ্গাপুরে পৌঁছানোর পর শাংগ্রি লা হোটেলে যাবেন ট্রাম্প। এয়ার ফোর্স ওয়ানের বিমানে ট্রাম্পের সঙ্গে রয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী মাইক পম্পেও, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন, হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ জন কেলি ও হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি সারাহ স্যান্ডার্স। চিরবৈরী দুই রাষ্ট্র প্রধানের সম্মেলনের আগে কোরীয় উপদ্বীপে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে। কয়েক দশক ধরে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করে আসছে উত্তর কোরিয়া। গত বছর দেশটি শক্তিশালী হাইড্রোজেন বোমার পরীক্ষা চালায়; যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রাণকেন্দ্রে আঘাত হানতে সক্ষম বলে হুমকি দেয় পিয়ংইয়ং। অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ চাপপ্রয়োগের মাঝেও পরপর বেশ কয়েকটি পারমাণবিক বোমার পরীক্ষা চালায় উত্তর কোরিয়া। এমনকি দেশটিতে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে নতুন বছরের এক ভাষণে শান্তির বার্তা শোনান উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। চলতি বছরের শুরুর দিকে দেওয়া ওই ভাষণে তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়া কাক্সিক্ষত পারমাণবিক অস্ত্র মজুতের লক্ষ্যে পৌঁছেছে। এখন দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিকে মনযোগ দেওয়া হবে। ওই সময়ই তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে একটি বৈঠক অনুষ্ঠানের ইঙ্গিত দেন। সূত্র : চ্যানেল নিউজ এশিয়া, দ্য স্ট্রেইট টাইমস, এএফপি।