Smiley face

নাটোর প্রতিনিধিঃ
নাটোরের সিংড়ায় আওয়ামীলীগ নেতাদের চাপের মুখে কুখ্যাত গাঁজা ব্যবসায়ীকে ছাড়তে বাধ্য হয়েছে সিংড়া থানা পুলিশ। গত বুধবার বিকেলে সিংড়া থানার উপ-পরিদর্শক সাজ্জাদুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে উপজেলার ১নং সুকাশ ইউনিয়নের বন কুড়াইল বাজার থেকে আঃ খালেক (৫০) নামের এক গাঁজা ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়।
সেখানে উপস্থিত শত শত জনতা তার কু-কর্মের কথা পুলিশের কাছে উপস্থাপন করেন।

আঃ খালেক বন কুড়াইল গ্রামের মৃত উজির পাইকার এর ছেলে ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি এস.এম আঃ হাই এর খালাতো ভাই। সে দীর্ঘদিন যাবৎ এলাকার বাজারে সাইকেল মেরামতের আড়ালে গাঁজার ব্যবসা করে আসছিলো। তার কারণে এলাকার শত শত যুবক নেশার রাজ্যে প্রবেশ করে।
বন কুড়াইল গ্রামের শাহিন বলেন, তার কারণে এলাকার যুবসমাজ ধ্বংসের দারপ্রান্তে চলে যাচ্ছে। আমরা এলাকাবাসী এটা থেকে পরিত্রাণ চাই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সাধারণ জনতা বলেন, এলাকায় মাদকের ভয়াল থাবায় দিশেহারা যুবসমাজ। যুবসমাজকে বাঁচাতে হলে আঃ খালেককে গ্রেফতারের বিকল্প নাই।

তাকে গ্রেফতার করে থানায় আনার পর থেকে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি এস.এম আঃ হাই,
সেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি হাসমত আলী, স্থানীয় ইউপি সদস্য ওবায়দুল থানায় এসে অফিসার ইনচার্জকে বার বার তাকে ছেড়ে দেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে।
অফিসার ইনচার্জ তাদের প্রভাবে প্রভাবিত না হয়ে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়। পরে উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র এক নেতা, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি এস.এম আঃ হাই এর অতিরিক্ত চাপে থানা হাজত থেকে আসামীকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। আসামী ছেড়ে দেয়ার পর ওসিকে মনক্ষন্ন অবস্থায় দেখা যায়।

ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি এস.এম আঃ হাই মাদক ব্যবসার কথা অস্বীকার করে বলেন সে আমার খালাতো ভাই, এজন্যই আমি তাকে থানা থেকে মুচলেকা দিয়ে বের করে এনেছি।

আসামী ছাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে অফিসার ইনচার্জ মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। এমতাবস্থায় ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি এস.এম আঃ হাই সহ উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র এক নেতার চাপের মুখে আসামী আঃ খালেককে ছাড়তে বাধ্য হয়েছি।

LEAVE A REPLY