ব্রাজিল ২-সার্বিয়া ০। এই স্কোরলাইন বোঝাতে পারছে না ব্রাজিল কী ফুটবল খেলেছে। কী রক্ষণ, কী আক্রমণ সব জায়গায় নিজেদের ঐতিহ্যবাহী ছন্দময় ফুটবল খেলে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠে গেছে দলটি। প্রথম গোল পাউলিনহোর, দ্বিতীয়টি সিলভার। দ্বিতীয় রাউন্ডে তারা খেলবে মেক্সিকোর বিপক্ষে।
ব্রাজিল এদিন ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে শুরু করে। স্ট্রাইকিংয়ে জেসাস। বাঁ উইংয়ে নেইমার। সেন্টার মিডফিল্ডে কৌতিনহো। এই তিনজনের বোঝাপড়া ছিল চোখে পড়ার মতো।

আক্রমণভাগের ডানদিকে ছিলেন উইলিয়ান। তাকে শুরুতে কিছুটা ম্লান মনে হলেও সেটি ক্ষতির কারণ হয়নি। ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডে বাঁদিকে ক্যাসেমিরো। ডানদিকে পাউলিনহো। ডিফেন্সে যথারীতি বাঁদিক থেকে মার্সেলো, মিরান্ডা, সিলভা এবং একদম ডানে ফাগনার কনসার্ভা।

শুরুতেই ব্রাজিলের জন্য দুঃসংবাদ হয়ে হাজির হয় মার্সেলোর ইনজুরি। চোটে পড়ে ১১ মিনিটের মাথায় মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। পরিবর্তে মাঠে নামেন ফিলিপ লুইস। দ্বিতীয়ার্ধের পর জানা যায়, মার্সেলো মেরুদণ্ডে আকস্মিক ব্যথা অনুভব করেন। পরীক্ষা করে তেমন কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। তিনি সুস্থ আছেন।

২৫তম মিনিটে প্রথম ভালো সুযোগ তৈরি করে ব্রাজিল। বাঁদিক থেকে আক্রমণে উঠে আসে দলটি। গ্যাব্রিয়েল জেসাস বক্সের ভেতর ড্রিবল করে জায়গা করার চেষ্টা করছিলেন। হঠাৎ বল চলে যায় নেইমারের কাছে। দুরহ কোণ থেকে নেইমার দূরের পোস্টে মারেন। সার্বিয়ান গোলরক্ষক ভ্লাদিমির স্টজকোভিচ সেটি ঠেকিয়ে দেন।

২৯তম মিনিটে নেইমার-জেসাসের বোঝাপোড়ায় আরেকটা ভালো সুযোগ তৈরি হয়। নেইমার বল ছাড়লে জেসাস একাই বক্সে ঢুকে পড়েন। আরেকটু আগে শট নিতে পারলে গোল পেতে পারতেন। কিন্তু দেরি করে ফেলায় নিকোলা মিলেনকোভিচ এসে ব্লক করতে সক্ষম হন।

একের পর এক আক্রমণের মুখে সার্বিয়া খেই হারায় ৩৬তম মিনিটে। বক্সের ঠিক বাইরে পাউলিনহোকে লম্বা চিপে বল দেন কৌতিনহো। দেখার মতো পাস ছিল। পাউলিনহো দৌড়ে তিনজনকে পেছনে ফেলে আগেভাগে বলে যান। লাফিয়ে ওঠা বলের নিচে পা লাগিয়ে সার্বিয়া গোলরক্ষকের মাথার উপর দিয়ে জাল খুঁজে নেন।

এই গোলটিতে ব্রাজিল কোচ টিটের ‘নির্দেশের অবদান’ রয়েছে। মিনিট খানেক আগে তিনি কৌতিনহোকে নির্দেশ দেন একটু নেমে খেলার। সেই থেকে পাউলিনহো উপরে ওঠেন। ফলাফল সুন্দর একটি গোল।

এক গোলে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ব্রাজিল একটু ধীরে-সুস্থে শুরু করে। প্রথম সুযোগ আসে ৫৭তম মিনিটে। নেইমার বল নিয়ে অনেকটা পথ দৌড়ে বক্সে ঢুকে পড়েন। শটও নেন। তবে গোলরক্ষকের সোজা!

৬১তম মিনিটে সার্বিয়াকে হতাশ করে সিলভার পা। এডাম ল্যাজিক বক্সের ভেতর বিপজ্জনক একটি ক্রস পাঠান। অ্যালিসন সেটি সামনে বাড়ান। মিত্রভিচ ছিলেন কাছে। ড্রপ খাওয়া বল হেড করেন। সিলভার পা না থাকলে নির্ঘাত গোল! পা থেকে যাওয়া বল ধরে ফেলেন ব্রাজিল গোলরক্ষক।

ব্রাজিলের দ্বিতীয় গোল আসে ৬৮তম মিনিটে। নেইমারের করা কর্নার থেকে অনেকটা লাফিয়ে হেড করেন থিয়াগো সিলভা। কাছের পোস্ট দিয়ে সেটি জালে জড়ায়।

দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে সার্বিয়া কয়েকটি ভালো আক্রমণ করেও ব্রাজিল গোলরক্ষককে পরাস্ত করতে পারেনি। ব্রাজিল বরং নিজেদের পায়ে বেশি বেশি বল রেখে সময় পার করে দেয়।