সামরিক জোটে বাংলাদেশের যোগদানকে গুরুত্ব দিচ্ছে সৌদি

দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটে বাংলাদেশের অংশগ্রহণকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ আল সউদ। সৌদি আরব সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিমানবন্দরে লাল গালিচা সংবর্ধনা প্রদান ও বাদশার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক থেকে ধারণা করা হচ্ছে এ সফরকে দেশটির পক্ষ থেকে খুবই গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

জানা গেছে, সৌদিতে সাধারণত রাজ্যের গভর্নর দিয়ে এ ধরনের অতিথিদের স্বাগত জানানো হয়। সেখানে, সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন নায়েফ বিমানবন্দর ছাড়াও অন্য যেকোনো স্থানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানাচ্ছেন। এছাড়া স্বয়ং বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ রাজধানী রিয়াদে নয়, জেদ্দায় আল সালাম প্রাসাদে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন।

সৌদি সামরিক জোটে অংশগ্রহণের ঘোষণা বিশেষ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলীর সৌদিতে সেনা পাঠানোর ঘোষণা দেওয়ার পরই আগের যেকোনো সফরের চেয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে সৌদি কর্তৃপক্ষ বেশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বলে মনে করছেন রাজনীতি বিশ্লেষকরা।

বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ জেদ্দায় আল সালাম প্রাসাদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সময় সউদী আরবের প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপমন্ত্রী সালমান বিন সুলতান আল সউদ এবং সৌদি বাদশাহের রয়্যাল কাউন্সিলের উপদেষ্টা ইয়াসের আল মিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে। দেশটির গোয়েন্দা প্রধান খালিদ বিন আলি হুমাইদানও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এসময় বাদশা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বারবার বলেছেন, পলিটিক্যাল, স্ট্যাট্রিক, বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় একসঙ্গে কাজ করবো। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন ইসলামিক জোটের বিষয়টিও উঠে আসে বৈঠকে।

এই জোটে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে বাদশা বলেন, এতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সৌদি আরব খুবই গুরুত্ব দেয়। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে একটা সুন্দর সম্পর্কও তৈরি হবে।

কিছু গতানুগতিক চুক্তি ও শ্রমবাজার, হজ ব্যবস্থাপনা, ব্যবসা-বাণিজ্যের মতো বিষয়গুলো আলোচনায় স্থান পাবার সঙ্গে সঙ্গে সন্ত্রাসবিরোধী সউদী জোটে বাংলাদেশের অংশ নেয়ার পর করণীয় নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে।