সাবেক ‘মিস বাগদাদ’ গুলিতে নিহত

পোরসে গাড়িটি নিজেই চালাচ্ছিলেন বাগদাদের সবচেয়ে রূপসী মেয়েটি। পরপর তিনটি গুলি এসে লাগে তাঁর শরীরে। তারপর সব শেষ। ইনস্টাগ্রামের ২৭ লাখ অনুসারী আর কোনো দিনই পাবেন না তারা ফারেজের নতুন কোনো ছবি বা ভিডিও।

গত বৃহস্পতিবার ইরাকের রাজধানী বাগদাদে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন সাবেক ‘মিস বাগদাদ’ তারা ফারেজ। তাঁর বয়স হয়েছিল ২২ বছর। দুঃসাহসী সব ছবি পোস্ট করে ইরাকের সামাজিক মিডিয়ায় আলোচিত হন এই ফ্যাশন ব্লগার। তাঁর হত্যাকারীদের সম্পর্কে কিছু জানা না গেলেও ভক্ত ও অনুসারীদের ধারণা, ধর্মীয় মৌলবাদীরাই তাঁকে হত্যা করেছে। কেননা, ইরাকি নারীদের স্বাধীনতা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না তারা। ইরাকি কৌতুক অভিনেতা আহমেদ আল-বশির বলেছেন, ‘জগতের বেশির ভাগ মেয়ের মতো বেঁচে থাকতে চাওয়াকে যারা অন্যায় মনে করে, তারাও এই খুনের পৃষ্ঠপোষক।

তারা ফারেজ নিজেও জানতেন, মৌলবাদীদের লক্ষ্যবস্তু হয়ে আছেন তিনি। গত জুলাইতে ইনস্টাগ্রামের এক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ‘যারা ঈশ্বরের অস্তিত্বকে অস্বীকার করে, তাদের আমি ভয় পাই না। বরং ঈশ্বরের অস্তিত্ব প্রমাণে যারা খুন-খারাবি করে, তাদের নিয়েই প্রকৃত ভয়।’ তারা ফারেজের হত্যার তদন্ত করছে ইরাকের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

মডেল তারা ফারেজ গুলিবিদ্ধ হওয়ার দুই দিন আগে বসরায় গুলিবিদ্ধ হন নারী অধিকারকর্মী সৌদ আল-আলী। দুর্নীতি ও অনিরাপদ পানির বিরুদ্ধে সম্প্রতি ওই অঞ্চলে আন্দোলন শুরু হয়েছে। সৌদ আল-আলী ওই আন্দোলনের সংগঠক। নিজের গাড়িতে ওঠার সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন।

এর আগে গত আগস্টে রহস্যজনকভাবে মারা যান ইরাকের দুজন রূপবিশেষজ্ঞ। অনেকে বিশ্বাস করেন, তাঁদের পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। স্থানীয় বার্বি বিউটি সেন্টারের মালিক রাফিফ আল-ইয়াসেরিকে গত ১৬ আগস্ট তাঁর নিজ বাসায় মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরের সপ্তাহে পাওয়া যায় আরেক সেলুনমালিক রাসা আল-হাসানের লাশ। তাঁদের মৃত্যুর কারণ এখনো রহস্যাবৃত।

ইরাকের সাংসদ ফাইক আল-শেখ আলী মনে করেন, তাঁরা সম্ভবত ধর্মীয় মৌলবাদীদের হাতেই নিহত হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বৈমানিক, চিকিৎসক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হলো, এবার রূপসজ্জা কেন্দ্রগুলো—রাফিফ থেকে রাসারা একই পথে গেল।’ টেলিগ্রাফডটকোডটইউকে