সাটুরিয়ায় আমের শাখায় দুলছে ‘সোনালী মুকুল’

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় শীতের প্রভাব কমতে শুরু করেছে। ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বাড়ার পাশাপাশি কুয়াশাও কমছে। শীত ও কুয়াশার শেষে আম গাছের কচি ডগা ভেদ করে বের হতে শুরু করেছে মুকুল। গাছে গাছে আমের মুকুল জানান দিচ্ছে ঋতুরাজ বসন্ত এসে গেছে। জেলার আম গাছের কচি শাখায় শোভা পাচ্ছে মুকুল। আমের শাখায় শাখায় উড়ে বেড়াচ্ছে মৌমাছি। তারা আশপাশ মুখরিত করে তুলেছে। আম গাছে মুকুল আসার আগ থেকেই পরিচর্যা শুরু করেছেন স্থানীয় চাষিরা। আম বাগানগুলোতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। মুকুল টিকিয়ে রাখতে প্রতিনিয়ত বালাইনাশক প্রয়োগ করছেন চাষিরা। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় চলতি মৌসুমে প্রায় দেড় হাজার হেক্টর জমিতে আম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এবার গত মৌসুমের চেয়ে বেশি জমিতে আম চাষ হবে। মুকুল টিকিয়ে রাখতে চাষিদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখছে কৃষি বিভাগ। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার আমের বাম্পার ফলন হওয়ার আশা করছে কৃষি বিভাগ। কৃষিবিদ মো. মীরজাহান জানান, এ বছর আগাম বৃষ্টিপাত হওয়ায় আমের মুকুল ঝরবে কম। ফলে আমের গুটি শক্ত হবে। এ বছর আমের বাম্পার ফলন হবে বলে আশাবাদী তিনি। উপজেলার গোপালপুর এলাকার আমচাষি মো. শহিদুল ইসলাম জানান, মুকুল আসার সপ্তাহ আগ থেকে তিনি গাছের পরিচর্যা করতে শুরু করেছেন। ঘন কুয়াশার কারণে মুকুল কিছুটা ঝরে গেছে। অবশিষ্ট মুকুল টিকিয়ে রাখতে কৃষি বিভাগের পরামর্শ মোতাবেক বিভিন্ন পদ্ধতিতে বালাইনাশক প্রয়োগ করছেন। অনুকূল আবহাওয়া থাকলে এবার আমের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. এমদাদুল হক জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলার প্রায় দেড় হাজার হেক্টর জমিতে আম চাষ হবে। সবে মাত্র গাছে মুকুল আসতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যেই চাষিরা গাছের পরিচর্যা শুরু করেছেন। প্রতিবারের ন্যায় এবারও চাষিদের কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা সার্বিক সহযোগিতা করছেন। কৃষি কর্মকর্তারা চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছেন।