সাগর-রুনী হত্যা: ৬ বছরেও মিলেনি জবাব

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনী হত্যাকাণ্ডের ছয় বছর হয়ে গেলেও এখনো তার রহস্যের জট খুলতে পারেনি তদন্তের দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বারবার তদন্ত নিয়ে আশার কথা বললেও যেই তিমিরে ছিল সেই তিমিরেই রয়ে গেছে এই সাংবাদিক দম্পতি হত্যা মামলা।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক গোলাম মোস্তফা সরওয়ার ওরফে সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন নাহার রুনা ওরফে মেহেরুন রুনী দম্পতি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের বাসায় খুন হন। পরের দিন ভোরে তাদের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়। রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

প্রথমে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন ওই থানার এক উপ-পরিদর্শক (এসআই)। চারদিন পর চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। দুই মাসেরও বেশি সময় তদন্ত করে ডিবি রহস্য উদ্ঘাটনে ব্যর্থ হয়। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল হত্যা মামলাটির তদন্তভার র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

কিন্তু গত ছয় বছরেও পুলিশ মামলার তদন্তে কেনো অগ্রগতির খবর দিতে পারেনি। অপরাধীদের চিহ্নিত বা আটকও করা যায়নি এই দীর্ঘ সময়ে৷ বিচারের অপেক্ষায় থাকতে থাকতে হতাশার পাহাড় জমে উঠেছে সাগর-রুনীর পরিবার ও নিকটজনদের মনে। গত বছরই রুনীর ছোট ভাই নওশের আলম রোমান বলেছিলেন, ‘সাগর-রুনির হত্যাকাণ্ডের বিচারের আশা ছেড়ে দিয়েছি। যদি কখনো বিচার সম্ভব হয় সেটি হবে অলৌকিকভাবে। কারণ হ্ত্যাকাণ্ডের সঙ্গে প্রভাবশালী কেউ জড়িত রয়েছে, আর না হয় তদন্তকারী সংস্থার ব্যর্থতা রয়েছে।’

সাগর-রুনী হত্যার বিচারের দাবিতে সাংবাদিকদের আন্দোলনও সময়ের সাথে বিচারহীনতায় স্তিমিত হয়ে আসছে। বিচারের দাবিতে সোচ্চার সাংবাদিকদের কণ্ঠগুলোও এখন বজ্রকণ্ঠ হয় কেবল ১১ ফেব্রুয়ারি এলেই। এতোদিনেও চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে ধীরগতি, অভিযোগপত্র দিতে টালবাহানায় সরকার-প্রশাসনের আন্তরিকতা নিয়েই বারবার প্রশ্ন তুলছেন সাংবাদিক সংগঠনগুলোর নেতারা। তাদের অনেকে মনে করেন খুনিরা অত্যন্ত প্রভাবশালী। কারণ বাংলাদেশের আইন-শৃংঙ্খলা বাহিনী চাইলে দোষীরা আইনের আওতায় আসে এই দৃষ্টান্ত নতুন নয়। অথচ অদৃশ্য কোনো কারণে সাগর-রুনী হত্যা রহস্য চাপা দেয়া হচ্ছে।

গত ডিসেম্বরে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানান, সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ডের রহস্য এখন পর্যন্ত উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি। আর এ কারণেই মামলা নিস্পত্তি করা হয়নি। তিনি বলেন, ‘সাগর-রুনির মামলাটি বর্তমানে র‌্যাব দেখছে, আশা করি খুব দ্রুতই রহস্য উদঘাটন হবে।’