সরকারি চাকরিতে কোটা প্রথা সংস্কারে রিট খারিজের বিরুদ্ধে আপিল

ফাইল ছবি
সরকারি চাকরিতে কোটা প্রথা সংস্কার চেয়ে রিট খারিজ করে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আবেদন করা হয়েছে। বুধবার (০৪এপ্রিল) আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটের পক্ষে আইনজীবী একলাছ উদ্দিন ভূঁইয়া এ আবেদন দায়ের করেন।
এর আগে, গত ৫ মার্চ সরকারি চাকরিতে কোটা প্রথা সংস্কার চেয়ে হাইকোর্টে দায়ের করা রিট সরাসরি খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এখলাস উদ্দিন ভুঁইয়া গত ৩১ জানুয়ারি রিট আবেদনকারীদের পক্ষে হাইকোর্টে এ রিট দায়ের করেন। রিটে সংস্কার চেয়ে আদালতের নির্দেশনা চাওয়া হয়।

আইনজীবী একলাছ উদ্দিন ভূইয়া জানান, ১৯৭২ সালে এক নির্বাহী আদেশে সরকারি, বেসরকারি, প্রতিরক্ষা, আধা সরকারি এবং জাতীয়করণ করা প্রতিষ্ঠানে জেলা ও জনসংখ্যার ভিত্তিতে ত্রিশ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা ও দশ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের জন্য কোটা প্রবর্তন করা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে কোটায় সংস্কার ও পরিবর্তন করা হয়। বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি নিয়োগে কোটা যেমন- প্রতিবন্ধী এক শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান নাতি নাতনি ৩০ শতাংশ, নারী ১০ শতাংশ, জেলা কোটা ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী পাঁচ শতাংশ কোটা। সব মিলিয়ে ৫৬ শতাংশ কোটা বিদ্যমান। এই কোটা প্রথা সংবিধানের ১৯, ২৮ ও ২৯ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আনিসুর রহমান মির, ঢাকাস্থ কুমিল্লা সাংবাদিক সমিতির সদস্য সচিব দিদারুল আলম ও দৈনিক আমাদের অর্থনীতির সিনিয়র সাব এডিটর আব্দুল ওদুদ রিট দায়েরের আবেদন করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘‘বাংলাদেশের সরকারি চাকরিতে এখন কোটার যে অবস্থা তা ন্যায় নীতির পরিপন্থী৷ কারণ মেধার চেয়ে সংরক্ষিত কোটা বেশি হতে পারেনা৷ বাংলাদেশের সংবিধানে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে সমতা নীতির কথা বলা হয়েছে৷

তবে সংবিধানে এও বলা হয়েছে অনগ্রসর সম্প্রদায়কে অগ্রসর করতে কোনো বিধান করতে সরকারকে ওই(সমতা) বিধান বাধাগ্রস্ত করবেনা৷ তবে প্রশ্ন হল মুক্তিযোদ্ধারা মুক্তিযোদ্ধা বলেই কি অনগ্রসর? আর আরো যারা অনগ্রসর কোটা সুবিধা পাচ্ছেনা তারা এখনো অনগ্রসর আছেন কিনা৷”

তিনি বলেন, ‘‘সরকারি চাকরিতে কোটার বিষয়টি এখন নতুন করে পর্যালোচনা করা দরকার৷ এটার সংস্কার জরুরি হয়ে পড়েছে৷ কোনোভাবেই কোটা শতকরা ৫০ ভাগের বেশি হওয়া উচিত না৷ আর যখন ১৯টি জেলা ছিল তখন সেখানে কোটা বিন্যাস করা সম্ভব ছিল৷ এখন ৬৪ জেলায় কোটা বিন্যাস অবাস্তব৷”

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে এই কোটা মুক্তিযোদ্ধাদের উপহার হিসেবে দিয়েছিলেন৷ কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট তাতে সপরিবারে হত্যার পর এই কোটা বাতিল করা হয়৷ ২৪ বছর মুক্তিযোদ্ধাদের এই কোটা দেয়া হয়নি৷ ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানদের জন্য আবার কোটা চালু হয়৷ ২৪ বছর যদি কোটা বন্ধ না রাখা হত তাহলে এখন আর মুক্তিযোদ্ধা কোটার প্রয়োজন থাকতো না৷