সরকারি কর্মচারীদের দক্ষতা বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

    সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সরকারি কর্মচারীদের দক্ষতা ও দায়বদ্ধতা আরো বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে তিনি ২০৪১ সালের কর্মপরিকল্পনায় মাঠপর্যায়ে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা ও চিন্তাভাবনা সন্নিবেশনের আহ্বান জানিয়েছেন।

    গতকাল বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তাঁর তেজগাঁও কার্যালয়ে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ২০১৮-১৯ অর্থবছরের কর্মসম্পাদন চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের পক্ষে জ্যেষ্ঠ সচিব ও সচিবরা চুক্তিতে সই করেন। পরে তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর হাতে এই চুক্তি হস্তান্তর করেন।

    শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি মনে করি, সরকারি কর্মচারীদের দক্ষতা ও দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি করা একান্তভাবে প্রয়োজন। কারণ আমরা যদি এই লক্ষ্যটা অর্জন করতে পারি, সমস্ত কাজগুলো বা সরকারি কর্মকাণ্ডগুলো ভালোভাবে বাস্তবায়ন করতে পারি, দক্ষতার সাথে বাস্তবায়ন করতে পারি, তার সুফল স্থায়ী ও দীর্ঘমেয়াদিভাবে মানুষ পাবে।’

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা হয়তো পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করি। কিন্তু আপনারা সরকারি কর্মচারী যাঁরা; আপনাদের ওপর দায়িত্ব বর্তায় সেগুলো বাস্তবায়ন করার। এই যে দক্ষতার সাথে আপনারা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন; তার ফলাফলটা আমরা পাচ্ছি। বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে যাচ্ছে এবং অনেক অর্জন আমরা দেখাতে পারছি।’

    জনগণের কাছে রাজনীতিবিদদের দায়বদ্ধতার কথা তুলে ধরতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের কাছে কিন্তু আমাদের পরীক্ষা দিতে হয়। পাঁচ বছর পর পর আমাদের জনগণের কাছে যেতে হবে ভোট চাইতে। আমাদের দেখাতে হবে, তাদের জন্য কতটুকু করতে পেরেছি।’

    শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০২১ থেকে ২০৪১ সালের মধ্যে কেমন বাংলাদেশ দেখতে চাই তা বাস্তবায়নের জন্য পরিকল্পনা প্রণয়ন আমরা ইতিমধ্যে শুরু করেছি। মাঠপর্যায়ে কর্মরত আপনাদের সেখানে কোনো পরিকল্পনা ও অভিজ্ঞতা যোগ করার থাকলে আপনারা তা করতে পারেন।’

    বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারের অগ্রগতির জন্য জনগণের পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তাদেরও ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে দেশের জনগণকে যেমন আমি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই, সেই সঙ্গে আপনারা যাঁরা এই কর্মযজ্ঞের সাথে জড়িত, সকল সরকারি কর্মচারীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই, আপনারা এই কাজগুলো আন্তরিকতার সাথে করে যাচ্ছেন। অন্তত আপনারা বুঝতে পেরেছেন; আমরা কী চাই।’

    বাংলাদেশে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে প্রথম বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি বা এপিএ প্রবর্তন করা হয়। এবার পঞ্চম বছরের মতো এ চুক্তি স্বাক্ষর হয়। সংশ্লিষ্ট অর্থবছর সমাপ্ত হওয়ার পর ওই বছরের চুক্তিতে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাগুলোর বিপরীতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের প্রকৃত অর্জন মূল্যায়ন করা হবে। অনুষ্ঠানে ২০১৬-১৭ বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ায় বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং কৃষি মন্ত্রণালয়কে সম্মাননা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এবারই প্রথম অনুষ্ঠানে জ্যেষ্ঠ সচিব ও সচিব পর্যায়ে শুদ্ধাচার পুরস্কার ২০১৭-১৮ প্রদান করা হয়। বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের সচিব মো. মফিজুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এই পুরস্কার গ্রহণ করেন।

    অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদেক, মন্ত্রিপরিষদসচিব মো. শফিউল আলম, মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ বক্তব্য দেন। এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সংস্কার ও উন্নয়ন) এন এম জিয়াউল আলম, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের সচিব মো. মফিজুল ইসলামও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।