‘সংসদ নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের কোনো বিধান নেই’

নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, সংবিধানে সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনী নিয়োগ করার কোনো বিধান নেই। তাই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের সম্ভাবনা নেই। শনিবার (০৯জুন) সকালে কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাহাট স্থলবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর হিসেবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন মন্ত্রী।
তবে তিনদিন আগে গত বুধবার বরিশালে এক অনুষ্ঠানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা বলেছিলেন, ‘আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে।’ তবে আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সেনা মোতায়েন করা হবে না।

স্থলবন্দর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নৌ-পরিবহন মন্ত্রী আরও বলেন, ‘বিএনপি বা তাদের ২০ দলীয় জোট যদি নির্বাচনে না আসে সেক্ষেত্রে হয়তো যে যার মতো নির্বাচন করতে পারে। সেটা তাদের দলীয় সিদ্ধান্ত। তবে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সবাই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে।’

কুড়িগ্রামবাসীর দাবি সোনাহাট স্থলবন্দরে ইমিগ্রেশন চালুর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‌‘ভারত সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে আমরা শিগগিরই ইমিগ্রেশন চালু করবো।’

২০১২ সালের ১৭ নভেম্বর বন্দরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান। ২০১৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর বন্দরের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এজন্য ১৪ দশমিক ৬৮ একর জমিসহ ৬শ’ মেট্রিকটন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন ১টি ওয়ারহাউজ, ৯৬ হাজার বর্গফুট আয়তনের পার্কিং ইয়ার্ড, ৮৫ হাজার বর্গফুট আয়তনের ওপেন স্ট্যাক ইয়ার্ড, শ্রমিকদের জন্য দুটি বিশ্রামাগার, একটি প্রশাসনিক ভবন, দ্বিতল বিশিষ্ট সিকিউরিটি ব্যারাক, একটি দ্বিতল ডরমেটরি ভবনসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণে ৩৯ কোটি ৪৩ লাখ ২৬ হাজার টাকা ব্যয় হয়।

সোনাহাট স্থলবন্দরের সঙ্গে ভারতের এলসি স্টেশন গোলকগঞ্জ, ধুবরী, আসাম থেকে পাথর, কয়লা, তাজাফল, ভুট্টা, গম, চাল, ডাল, রসুন, আদা এবং পেঁয়াজ এ ১০টি পণ্য আমদানি-রফতানির চুক্তি হয়। কিন্তু শুরু থেকে কয়লা ও পাথর আমদানি হচ্ছে।

স্থলবন্দর চত্বরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান। আরও বক্তব্য রাখেন বংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ চেয়ারম্যান তপন কুমার চক্রবর্তী, পুলিশ সুপার মেহেদুল করিম, কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সাবেক এমপি মো. জাফর আলী।