সংসদ নির্বাচনে ই-ভোটিং ব্যবস্থা চালুর পক্ষে প্রধানমন্ত্রী

    সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য বর্তমানে বিরাজমান সব বিধি-বিধানের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ই-ভোটিং ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা।

    বুধবার জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনের সদস্য নূর-ই-হাসনা লিলি চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনমানুষের ভোটাধিকার অধিকতর সুনিশ্চিত করার স্বার্থে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনেই ‘ই-ভোটিং’ এর প্রবর্তন করার পরিকল্পনাও বিবেচনায় নেয়া যেতে পারে।

    ইসি গঠনে আইন প্রণয়নের তাগিদ
    ইসি গঠনে আইন করার বিষয়টি তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা চাই পরবর্তীতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের লক্ষ্যে একটি উপযুক্ত আইন প্রণয়ন করা হোক। সংবিধানের নির্দেশনার আলোকে এখন থেকেই সেই উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে।

    নতুন নির্বাচন কমিশনারদের অভিনন্দন প্রধানমন্ত্রীর
    সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য কমিশনারদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ নতুন ইসি শপথ গ্রহণ করেছেন। তাদের সবাইকে আমি অভিনন্দন জানাই।

    শেখ হাসিনা বলেন, পুনর্গঠিত নির্বাচন কমিশনে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নির্বাচন কমিশনার হিসেবে একজন নারীকে নিয়োগ প্রদান করায় আমরা আনন্দিত ও গর্বিত। তাদের সকলকে আমি অভিনন্দন জানাই।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাছাই কমিটির মতামত ও সুপারিশের ভিত্তিতে মহামান্য রাষ্ট্রপতি তার নিজের প্রজ্ঞায়, স্বীয় বিবেচনায় ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করেছেন। মহামান্য রাষ্ট্রপতির সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের সুগভীর প্রজ্ঞা ও সুবিবেচনার প্রতি আমাদের পরিপূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের পবিত্র সংবিধানের প্রতি অনুগত থেকে নতুন নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ ও স্বাধীনভাবে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে দেশবাসীর আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। নির্বাচন কমিশনকে সরকার সব ধরনের সহায়তা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

    অর্গানাইজেশন অব আমেরিকান স্টেটস’র স্থায়ী পর্যবেক্ষক হলো বাংলাদেশ
    স্বতন্ত্র সদস্য মো. আব্দুল মতিনের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের সক্রিয় কূটনৈতিক উদ্যোগের ফলশ্রুতিতে এ বছরের শুরুতে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম পুরনো বহুমুখী আঞ্চলিক সংস্থা ‘অর্গানাইজেশন অব আমেরিকান স্টেটস’র (ওএএস) স্থায়ী পর্যবেক্ষকের মর্যাদা লাভ করেছে। ১৯৪৮ সালে গঠিত এই আঞ্চলিক সংস্থাটিতে উত্তর-দক্ষিণ-মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের মোট ৩৫টি দেশের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওএএস’র স্থায়ী পর্যবেক্ষক হিসেবে অন্তর্ভুক্তি ‘ওএএস’ যুক্ত দেশসমূহের সঙ্গে বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অধিকতর সম্পৃক্ততা এবং সহযোগিতার দ্বার উন্মোচন করবে। একইসঙ্গে বিভিন্ন বহুপাক্ষিক বিষয়সমূহ যেমন- গণতন্ত্র, সন্ত্রাস নির্মূল, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার, বিনিয়োগ, বাণিজ্য, টেকসহ উন্নয়ন, শান্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশসমূহের সঙ্গে বাংলাদেশ আরও নিবিড়ভাবে কাজ করতে পারবে। তিনি বলেন, জাতিসংঘের অনেক সদস্য রাষ্ট্রই এ সংস্থাটির সক্রিয় সদস্য এবং পর্যবেক্ষক হওয়ায় জাতিসংঘের প্লাটফর্মের বাইরে সদস্য রাষ্ট্রসমূহের সঙ্গে সম্পর্ক সুদৃঢ়করণের ক্ষেত্রে বিকল্প প্লাটফর্ম হিসেবে এই সংস্থাটিতে যোগদান ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। একইসঙ্গে স্থায়ী পর্যবেক্ষক হওয়ার কারণে বাংলাদেশ সংস্থাটির সব আলোচনা ও গুরুত্বপূর্ণ সভায় অংশগ্রহণ করতে পারবে।