print
শফিউল আলম লাভলুঃ
প্রযুক্তির ছোঁয়ায় প্রতিনিয়ত দিন বদল হচ্ছে, আর উপকার ভোগ করছেন সর্বসাধারণ। তবে সবচেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছেন কৃষক। কৃষি উন্নয়নে যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন প্রযুক্তি ব্যবস্থা। এমন একটি প্রযুক্তি ব্যবস্থা হলো কমিউনিটি (আদর্শ) বীজতলা। এই বীজতলা তৈরী ও চাষে কৃষকের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাচ্ছে।
শেরপুরের ৫টি উপজেলায় কমিউনিটি বীজতলা তৈরীতে কয়েক বছর ধরে আগ্রহ বেড়েই চলছে। তবে নকলা উপজেলায় এই বীজতলা তৈরীতে কৃষকরা বেশি ঝুঁকছেন। দিনদিন এই পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরী জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কমিউনিটি (আদর্শ) বীজতলা তৈরী করায় কৃষকের ধান উৎপাদন খরচ ৩০ থেকে ৩৫ ভাগ কম লাগছে।
উপজেলার চরকৈয়া এলাকার কৃষক ফরিদুল, কুর্শাবাদাগৈড় এলাকার কৃষক লিয়াকত আলী, ভূরদী গ্রামের কৃষক ছাইয়েদুলের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আগের পদ্ধতির চেয়ে কমিউনিটি পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরি করলে বীজ, শ্রম, সার, জায়গা, সেচ ও সময়সহ খরচ অনেক কম লাগে; কিন্তু ফলন ভালো পাওয়া যায়।
তারা আরো জানান, উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতা ও পরামর্শে কমিউনিটি (আদর্শ) পদ্ধতিতে যেকোন জমিতে বীজতলা তৈরি করতে পেরে তারা লাভবান হচ্ছেন। সনাতন পদ্ধতিতে যে জায়গায় ৫০কেজি. বীজ লাগত, সেখানে কমিউনিটি পদ্ধতিতে ৩৫কেজি. বীজ লাগে। তাতে বীজতলা তৈরী থেকে অন্যান্যসব মিলে এক হাজার ২০০ টাকা খরচ কম হয়েছে; অথচ আগে ৫০ কেজি. বীজের চারা দিয়ে ২.৫ একর জমি রোপন করা যেতো, আর কমিউনিটি বীজতলার ৩৫ কেজি. বীজের চারা দিয়েও ওই জমিটুকু রোপন করা সম্ভব। তাছাড়া আগের চেয়ে ফলন ভালো হয়, সেবা যত করাও সহজ হয়। খরচ প্রায় অর্ধেক লাগে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হুমায়ুন কবীর জানান, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলায় হাইব্রিড জাতের ধান ৬ হাজার ৪শ৭৫ হেক্টর, উফসী জাতের ৬ হাজার ১শ৯৫ হেক্টর এবং স্থানীয় জাতের ৮০ হেক্টর জমিসহ মোট ১২ হাজার ৭শ৫০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই আবাদের জন্য ৮শ০৫ হেক্টর জমিতে বীজতলা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ২শ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি শেষ হয়েছে। এর মধ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ন্যাশনাল এগ্রিকালচার টেকনোলজি প্রোগ্রাম ফেজ প্রজেক্ট (এনএটিপি-২)’র আওতায় ২৫টি প্রদর্শনী প্লটের মাধ্যমে সাড়ে তিন একর জমিতে ৫শ৮০ কেজি. ধানের বীজ কমিউনিটি (আদর্শ) পদ্ধতিতে বপন করা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল ওয়াদুদ জানান, তারা কয়েক বছর ধরে কমিউনিটি (আদর্শ) পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরি করতে কৃষককে হাতে নাতে শিক্ষা দিচ্ছেন। বীজতলা তৈরির মৌসুমে ছুটির দিনেও মাঠে ঘুরে কৃষকদের পরামর্শ দেন তারা।

LEAVE A REPLY