বিদ্যমান শিশু আইন ২০১৩-এর কয়েকটি ধারার সংশোধনের প্রস্তাব করে জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ‘শিশু (সংশোধন) বিল-২০১৮’ পাসের সুপারিশ করেছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। কমিটির বৈঠকে বিলটি পাসের সুপারিশ করে সংসদের চলতি অধিবেশনেই প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আজ রবিবার দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন। বৈঠকে কমিটির সদস্য ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, পীর ফজলুর রহমান, মো. আব্দুল মতিন, বেগম লুৎফা তাহের ও সৈয়দা সায়রা মহসীন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কমিটি সূত্র জানায়, বৈঠকে ‘শিশু (সংশোধন) বিল-২০১৮’ নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় বিলের বিভিন্ন ধারা-উপধারা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। গত ২৬ জুন ওই বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। পরে বিলটি অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

বিলে বিদ্যমান আইনের ধারা ২-এর ১৬ দফার পর ম্যাজিস্ট্রেট অর্থ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৬-এর উপ-ধারা (৩) এ উল্লেখিত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট যার অপরাধ আমলে গ্রহণ করার ক্ষমতা রয়েছে শীর্ষক নতুন ১৬ক দফা প্রতিস্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ ছাড়া একই ধারার দফা ১৮-এর পরিবর্তে শিশু আদালত অর্থ ধারা ১৬ এ উল্লেখিত কোন আদালত প্রতিস্থাপনের প্রস্তাব করা হয়।

বিলে বিদ্যমান আইনের ধারা-১৫ এ উল্লেখিত পুলিশ রিপোর্ট বা অনুসন্ধান প্রতিবেদন সম্পর্কিত নতুন ১৫ ধারা প্রতিস্থাপনের প্রস্তাব করা হয়। এ ছাড়া বিদ্যমান আইনের ধারা ১৫-এর পর মামলা স্থানান্তর সম্পর্কিত বিধান সম্বলিত নতুন ১৫ক ধারা সন্নিবেশের প্রস্তাব করা হয়।

এ ছাড়া বিলে বিদ্যমান আইনের ধারা ৫৮, ৮১ ও ৯৪ বিলুপ্তির প্রস্তাব করা হয়। পাশাপাশি এ বিলের বিধান কার্যকর হবার অব্যবহিত পূর্বের জন্য শিশু আদালতের মামলা স্থানান্তর সম্পর্কে ক্রান্তিকালীন বিধানের প্রস্তাব করা হয়েছে।