শরীয়তপুরে পদ্মায় হঠাৎ তলিয়ে গেলেন প্রায়৪০ জন

শরীয়তপুরে পদ্মার ভয়াবহ ভাঙনে নড়িয়ায় সাধুর বাজারে ৭টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ২টি ট্রলি, একটি মাহেন্দ্র নিয়ে একটি লঞ্চঘাট পল্টুন ও ঘাটসংলগ্ন বাজার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

এ সময় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও তার আশপাশে থাকা প্রায় ৪০ জন মানুষ নদীতে হঠাৎ তলিয়ে যায়।

মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে নড়িয়ার সাধুরবাজার লঞ্চঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা আহত অবস্থায় ১৭ জনকে উদ্ধার করে নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছে।

তলিয়ে যাওয়া লোকজনের মধ্যে প্রায় ৩০ সাঁতার কেটে তীরে উঠলেও এখনও নিখোঁজ রয়েছে ৯ জন।

ভাঙনকবলিতদের কান্নায় ভারি হয়ে উঠছে পদ্মা ডান তীরবর্তী এলাকা। ভিড় করছে হাজার হাজার মানুষ। তবে নিখোঁজের সংখ্যা আরও বাড়তে বারে বলে ফায়ার সার্ভিস, উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন।

এলাকার বাড়িঘর ও লোকজনকে নিরাপদ স্থানে এবং নদীর তীরবর্তী স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। কেদারপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যার ঈমাম হোসেন দেওয়ান ও নড়িয়া থানা সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০-১২ বছর ধরে শরীয়তপুরের নড়িয়া ও জাজিরা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পদ্মার ভাঙন শুরু হয়েছে। বিরামহীন এ ভাঙন চলতে থাকে তবে এবার শত বছরের ইতিহাসে পদ্মার ভয়াবহ এ রকম রূপ কেউ দেখেনি।

ভয়াবহ ভাঙনে গত ২ বছরে নড়িয়া ও জাজিরা উপজেলার কুণ্ডেরচর, মোক্তারের চর, কেদারপুর ইউনিয়ন ও নড়িয়া পৌরসভার পদ্মা নদীর ভাঙনে বিরাট একটি অংশ বিলীন হয়ে গেছে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ হাটবাজার, মসজিদ-মাদ্রাসা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

ভাঙনের ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছে পদ্মা পাড়ের মানুষ। খোলা আকাশের নিচে অনাহারে অর্ধাহারে মানবেতর জীবনযাপন করছে ভাঙনকবলিতরা। ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি এলাকাবাসীর।

ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক নিয়াজ আহমেদ বলেন, নিখোজদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশসহ স্থানীয়রা সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে।