লালমনিরহাটে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারসহ তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা।

লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি:লালমনিরহাটে জাতীর পিতার আত্নস্বীকৃত খুনিদের আশ্রয় ও প্রশ্রয় দানকারী মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোঃ মেজবাহ উদ্দিন আহমেদসহ চারজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে লালমনিরহাট অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল আদালতে মানহানির মামলা দায়ের করা হয়েছে।লালমনিরহাট প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং দৈনিক সংবাদ এর জেলা বার্তা পরিবেশক সিনিয়র সাংবাদিক, কন্ঠশিল্পী ও সংস্কৃতিসেবী গোকুল রায় বাদী হয়ে সোমবার ১ জানুয়ারি এ মামলা দায়ের করেন।

বিজ্ঞ বিচারক অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল মেজিস্ট্রেট জনাব মেহেদী হাসান মন্ডলের আদালতে দীর্ঘ শুনানি শেষে মামলাটি আমলে নিয়ে আসামী মোঃ মেজবাহ উদ্দিন, স্থানীয় সাপ্তাহিক আলোর মনি পত্রিকার সম্পাদক মোঃ মাসুদ রানা, নির্বাহী সম্পাদক মোঃ হেলাল হোসেন ও প্রকাশক রমজান আলীসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালত সমন জারী করেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী জানা যায়, সম্প্রতি শেষ হওয়া মুক্তিযোদ্ধা যাচাইবাছাই পর্বে মেজবাহ উদ্দিনের নেতৃত্বে সদর উপজেলা বাছাই কমিটি লাগামহীন দুর্নীতিতে লিপ্ত হয়ে বিশাল বাণিজ্য করে, দুর্নীতির মাধ্যমে অনেক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাকে বাতিল করে বাছাই কমিটি নিজেদের আত্মীয়স্বজন, এমনকি রাজাকার পরিবারেরও অনেককে মুক্তিযোদ্ধা তৈরী করে বলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে প্রকাশ পায়।

এসমস্ত অনিয়ম দুর্নীতির প্রতিবাদে এবং যাচাই ব্ছাাই বাতিলের দাবীতে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে সাধারণ মুক্তিযোদ্ধারা। তাঁরা দফায় দফায় সাংবাদিক সম্মেলন, মানববন্ধন, বিক্ষোভ, প্রদশন, প্রধানমন্ত্রী ও মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে। এমনকি মেজবাহ উদ্দিনের নিজস্ব মহল্লার আপামর জনসাধারণ তাঁকে গ্রেফতারের দাবী জানায়।

এসমস্ত বিক্ষোভ কর্মসূচীতে তাঁর বিরুদ্ধে পচাঁত্তরে জাতির পিতার নৃশংস হত্যাকান্ডের আত্মস্বীকৃত খুনিদের লালমনিরহাটে থানা পাড়াস্থ তাঁর নিজ বাসায় আশ্রয় প্রশ্রয় দান, ফ্রিডম পার্টি গঠনে প্রকাশ্য তৎপরতা এবং শহরের সোহরাওয়ার্দী মাঠে একটি জনসভারও আয়োজন করার অভিযোগ তোলা হয়। মুক্তিযোদ্ধা মেজবাহ উদ্দিন ও তাঁর পরিবারের এসব অপতৎপরতা এবং খুনি গংদের সহায়তার বিষয়টি তাঁর নিজস্ব মহল্লার প্রত্যক্ষদর্শী ও সাধারণ মুক্তিযোদ্ধারা বর্ণনা দেন এবং তাঁকে অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবী জানান। তাঁর বিরুদ্ধে এসব আন্দোলন কর্মসুচীর খবর দৈনিক সংবাদসহ দেশের বহুল প্রচারিত পত্রিকা, আঞ্চলিক পত্রপত্রিকা এবং অন্যান্য টেলিভিশন মিডিয়াগুলোতে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। কিন্তু উদ্দেশ্যমূলকভাবে লালমনিরহাট জেলার একটি বিশিষ্ট এবং উচ্চ শিক্ষিত গোকুল রায়ের পরিবারবর্গকে সমাজে হেয় করার জন্য দৈনিক সংবাদে একটি প্রকাশিত খবরের প্রতিবাদের নামে স্থানীয় অনিয়মিতভাবে প্রকাশিত একটি পত্রিকা সাপ্তাহিক আলোর মনিতে মিঃ গোকুল রায়, তাঁর বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব ও স্বর্ণ পদক প্রাপ্ত মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক মুক্তিযোদ্ধা শ্রী কৃষ্ণ গোপাল রায়, তাঁর ছোট ভাই বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিক, অবসর প্রাপ্ত যুগ্ম কর কমিশনার শ্রী মুকুল রায়, তাঁর ছোট বোন লালমনিরহাট সরকারী কলেজের ইংরেজী বিভাগের শিক্ষক মুক্তি রায়ের বিরুদ্ধে আপত্তিকর বক্তব্য ও কুৎসা রটনা করেন। অথচ দৈনিক সংবাদে প্রকাশিত একটি খবরের প্রতিবাদের কথা উল্লেখ করা হলেও জেলার বিশিষ্ট সাংবাদিক গোকুল রায়ের নাম দিয়ে গত ৬ সেপ্টেম্বর দৈনিক সংবাদে ’একজন মুক্তযোদ্ধার মৃত্যু ও বিতর্কিত তালিকা নিয়ে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী’ শিরোনামে খবরটি প্রকাশিত হলেও প্রতিবাদের কোনো অনুলিপি গোকুল রায়কে দেয়া হয়নি। অথচ এই খবরটির প্রতিবাদের নামেই এই সম্ভ্রান্ত পরিবারটির বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করা হয়েছে এবং পরিবারটির মানহানির ঘটানো হয়েছে।

এ মানহানির ঘটনাটি ২০ কোটি টাকাতেও পূরণীয় নয় উল্লেখ করে ৫০০/৫০১/৫০২ ধারায় আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়।
এদিকে বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি গংদের মেজবাহ উদ্দিনের নিজস্ব বাসায় আশ্রয় পশ্রয় দান, ফ্রিডম পার্টি সংগঠিত করা, মাঠে জনসভার আয়োজনের প্রত্যদর্শীদের অভিযোগ ও বিবরণ বিষয়ে উক্ত মুক্তিযোদ্ধা মেজবাহ উদ্দিন সরাসরি অস্বীকার করতে না পেরে দায়সারা বক্তব্য দেন।