আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) চিঠির জবাব দিলেও বাংলাদেশ রোহিঙ্গা ইস্যুতে দ্বিপাক্ষিকভাবে সমস্যা সমাধানে আগ্রহী। বাংলাদেশ চায় রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায়, নিরাপদে, নাগরিক অধিকার নিয়ে ফিরে যাক। সেভাবেই কাজ করে চলছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর মানবতাবিরোধী অপরাধ ঘটেছে কি-না, তা তদন্তের আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের পক্ষ থেকে গত মে মাসে চিঠি দেওয়া হয়। ওই চিঠিতে বাংলাদেশকে আগামী ১১ জুনের মধ্যে লিখিত বক্তব্য জানাতে বলা হয়। সম্প্রতি এই চিঠির জবাব দিয়েছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, বাংলাদেশ যেহেতু রোম সংবিধিতে সই করেছে, সেহেতু আইসিসির চিঠির জবাব দেওয়ার এক ধরনের বাধ্যবাধকতা বাংলাদেশের ছিল। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত যেসব তথ্য চেয়েছে, আমরা কেবল সেগুলোই তাদের দিয়েছি। তবে বাংলাদেশ এখনো মনে করে, মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমেই এ সংকটের সমাধান সম্ভব। আইসিসির চিঠিতে জানতে চাওয়া হয়, বিশাল জনসংখ্যার মিয়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী কোন প্রেক্ষিতে বাংলাদেশে ঢুকল। বাংলাদেশ আইসিসির সদস্য হলেও মিয়ানমার সদস্য নয়। এই প্রেক্ষিতে রাখাইনে সংগঠিত অপরাধ তদন্তে আইসিসির এখতিয়ার নিয়ে বাংলাদেশের মতামত কী। রোহিঙ্গা ইস্যুতে সংগঠিত অপরাধ আমলে নিয়ে আইসিসি তদন্ত করতে পারে, এমন বিষয়ে বাংলাদেশের বক্তব্য কী।
এদিকে অনেকেরই আশঙ্কা আইসিসির চিঠির জবাব দেওয়ায় চিড় ধরতে পারে মিয়ানমারের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে। তবে শরণার্থী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের এমন উদ্যোগ প্রশংসনীয়। এতে মানবাধিকারের প্রশ্নটি আরও জোরালো হবে। আর অস্ট্রেলিয়ার বর্ষিয়ান রাজনীতিক ফিলিপ রুডকের মতে, আইসিসিতে বাংলাদেশ মতামত দেওয়ায় মিয়ানমারকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার পথ সুগম হবে। আগামী ২০ জুন আইসিসির প্রি ট্রায়াল চেম্বারে রোহিঙ্গা নিপীড়ন নিয়ে রুদ্ধদ্বার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। আইসিসির চিঠির বিষয়ে সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, কীভাবে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের স্বার্থ সংরক্ষণ করা যায় এবং কীভাবে আমাদের (বাংলাদেশ) স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়টিও নিশ্চিত করা যায়, আমরা সেভাবেই কাজ করছি। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের চিঠির জবাব দিচ্ছেন নাকি দিচ্ছেন না, গণমাধ্যমকর্মীদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা চাই রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায়, নিরাপদে, নাগরিক অধিকার নিয়ে ফিরে যাক। আমরা সেভাবেই কাজ করছি।