মিয়ানমার থেকে প্রাণভয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। সংস্থাটি বলেছে, সরকার চাইলে সাহায্য দিতে প্রস্তুত তারা। তবে এজন্য বাংলাদেশকে সহায়তা চাইতে হবে ।

সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে সফররত এডিবির দক্ষিণ এশীয় বিভাগের মহাপরিচালক (ডিজি) হুন কিম সাংবাদিকদের একথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হুন কিম। তবে কী পরিমাণ সহায়তা দেওয়া হতে পারে সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি এডিবি’র ডিজি।

এদিকে, অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাংকের মতো এডিবির কাছেও রোহিঙ্গাদের জন্য সহায়তা চাওয়া হবে।

কবে নাগাদ এ সহায়তা চাওয়া হবে—জানতে চাইলে মুহিত জানান, এখনও সে সিদ্ধান্ত হয়নি। কীভাবে (সহায়তা) পাওয়া যেতে পারে, তার প্রক্রিয়া নিয়ে চিন্তা-ভাবনা চলছে। এ লক্ষ্যে একটি প্রকল্প তৈরি করতে হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

তিন দিনের সফরে রোববার ঢাকায় আসেন এডিবির দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের ডিজি হুন কিম। মূলত ঢাকায় এডিবির নতুন কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন পারাকাশকে পরিচয় করিয়ে দিতেই বিকেলে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন হুন কিম। বৈঠক শৈষে অর্থমন্ত্রী ও এডিবি’র ডিজি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

বাংলাদেশকে আগামী পাঁচ বছরে ৮০০ কোটি ডলার বা ৬৪ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ সহায়তার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন এডিবির ডিজি। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বছরে গড়ে ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি ডলার পাচ্ছে বাংলদেশ। আগামীতে বাংলাদেশ আরও বেশি সহায়তা পাবে। এর পরিমাণ হবে বছরে দেড়শ কোটি ডলার।’

বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অগ্রগতির প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন, ‘অর্থ কোনো সমস্যা নয়। বাংলাদেশেকে সবসময় সহায়তা করতে চায় এডিবি। তবে এটি নির্ভর করবে দেশটি কী পরিমাণ সহায়তা ব্যবহার করতে পারে।’

এক প্রশ্নের জবাবে হুন কিম বলেন, ‘এডিবি একটি বহুজাতিক ঋণদাতা সংস্থা। কাজেই রোহিঙ্গা ইস্যুতে অনুদান নয়, ঋণ দেওয়া হবে।’

তিনি আরও জানান, রোহিঙ্গাদের জন্য তাদের সমবেদনা আছে। এজন্য সব ধরনের সহায়তা দিতে রাজি এডিবি।

বন্যাদুর্গত এলাকায় সহায়তা প্রসঙ্গে এডিবির ডিজি বলেন, ‘বন্যাদুর্গতদের জন্য এডিবি’র সহায়তা খুবই সামান্য। প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের অর্থনীতি অনেক বড় হয়েছে। এখন ২০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থনীতি। সেখানে এডিবি’র দেড়শ কোটি ডলার খুব বেশি নয়।’

বাংলাদেশ যতো বেশি খরচ করতে পারবে এডিবি ততো বেশি বিনিয়োগ করবে বলে জানান তিনি।

রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় বিশ্বব্যাংকও সহায়তা করতে চায়। সংস্থাটি ৩০ কোটি ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বিশ্বব্যাংকের কাছে এ বিষয়ে সাহায্য চাইলেও এডিবিকে এখনও অনুরোধ করেনি সরকার।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকারের খরচ বাড়ছে, এতে বাজেটে চাপ পড়বে কী-না—জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ভেবেছিলাম সমস্যা হবে। এখন দেখছি তেমন সমস্যা হবে না। কারণ তাদের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্যসামগ্রী ও ত্রাণ পাওয়া যাচ্ছে। বিভিন্ন দেশ ও দাতা সংস্থা এ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দিচ্ছে।’

উল্লেখ্য, মিয়ানমারের রাখাইনে নিপীড়ন-নির্যাতনের মুখে গত ২৫ আগস্ট থেকে ৬ লাখ ২২ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। ১৯৭৮ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে আসা আরও প্রায় ৫ লাখ রোহিঙ্গা আগে থেকেই বাংলাদেশে রয়েছে।