প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুসারে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে ডিসেম্বরে। আইন অনুযায়ী নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে তিন মাস আগে অর্থাৎ তফসিল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সে হিসাবে তফসিল ঘোষিত হবে অক্টোবরে। বর্তমানে সময় বাকি সাত মাস। কিন্তু এখনো নির্বাচনী আসনের সীমানা নির্ধারণ ও আরপিও সংশোধন করতে পারেনি নির্বাচন আয়োজনকারী সাংবিধানিকভাবে স্বাধীন সংস্থাটি। অবশ্য এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইসি ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী সংলাপ ছাড়া কিছুই হয়নি নির্ধারিত সময়ে। রোডম্যাপ অনুসারে এসব কাজ আরও আগে সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল।
কেএম নুরুল হুদা কমিশন ঘোষিত রোডম্যাপ অনুসারে গত বছর নভেম্বরেই ৩০০ নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ করে খসড়া তালিকা প্রকাশ করার কথা ছিল। এ বিষয়ে দাবি/আপত্তি/সুপারিশ আহ্বান করে তা নিষ্পতি করে ডিসেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের সময় নির্ধারণের কথা। বর্তমানে ফেব্রুয়ারি চলছে। এ মাসেও খসড়া প্রকাশের সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এই সীমানার ওপর ভিত্তি করেই আগামী জুন থেকে সব নির্বাচনী এলাকার জন্য ছবিসহ ভোটার তালিকা মুদ্রণ ও ছবিছাড়া ভোটার তালিকার সিডি প্রণয়ন ও বিতরণ করার কথা রয়েছে। জুলাই থেকে নির্বাচনী এলাকাভিত্তিক ভোটকেন্দ্রের খসড়া তালিকা প্রকাশ ও রাজনৈতিক দলের স্থানীয় দপ্তরে পাঠাবে ইসি।
একাদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নতুন সীমানা নির্ধারণে নতুন আইন করার কথা রোডম্যাপে উল্লেখ করেছিল ইসি। কিন্তু সে অনুযায়ী কাজ করতে পারেনি সংস্থাটি। জানা গেছে পিছু হটে পুরনো আইনেই সীমান নির্ধারণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম আমাদের সময়কে বলেন, আইনি জটিলতার কারণে সীমানা খসড়া উপস্থাপনে সময় লাগছে। আদালতের আদেশের পরে আমি মাত্র একদিন সময় নেব। এর পরই সীমানার খসড়া কমিশন বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। রোডম্যাপের শিডিউল অনুসারে সম্পন্ন না হলেও এতে আগামী নির্বাচনে প্রভাব পড়বে না বলে মনে করেন তিনি।
এ ছাড়া নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য দ্য রিপ্রেজেনটেশন অব দ্য পিপল অর্ডিন্যান্স, ১৯৭২ (আরপিও) এবং সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রোডম্যাপে বলা হয়, নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা ২০০৮-এর কাঠামোয় কিছু অস্পষ্টতা রয়েছে, যা দূর করা বিশেষ প্রয়োজন। এসব সংশোধনের ক্ষেত্রে সংলাপে প্রাপ্ত প্রস্তাব বিবেচনা করে গত ডিসেম্বরের মধ্যে আইন সংস্কারের প্রাসঙ্গিক খসড়া প্রস্তুত করার কথা ছিল। চলতি ফেব্রুয়ারির মধ্যে আইন প্রণয়নের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা থাকলেও এখনো কমিশন সভায় উপস্থাপন করা হয়নি।
এ বিষয়ে সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) এম সাখাওয়াত হোসেন আমাদের সময়কে বলেন, আরপিও সংশোধন তারা করবে কিনা জানি না। যদি প্রয়োজন মনে করেন, তা হলে সেটা করা সময়ের ব্যাপার। কারণ এটা আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে। সেখান থেকে ভেটিং হয়ে আসবে। এতে সময় প্রয়োজন। তিনি বলেন, সব যে রোডম্যাপের ডেট অনুসারে করতে হবে, তা নয়। তবে সময় চলে যাচ্ছে, রাজনৈতিক পরিস্থিতিও জটিল হয়ে উঠছে। দ্রুতই করে ফেলা উচিত। নয়ত তড়িঘড়ি করে করতে হবে।
এদিকে গত জুলাই থেকে সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম প্রতিনিধি, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা, নারী নেত্রী ও নির্বাচন পরিচালনাবিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সংলাপ করে ইসি। এসব সংলাপ শেষে প্রাপ্ত সুপারিশ বই আকারে একত্রিত করে ডিসেম্বরে মধ্যে সরকারের কাছে উপস্থাপনের কথা বলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা। সে সময় সিইসি বলেন, সব সুপারিশ বাস্তবায়নের এখতিয়ার আমাদের নেই। তবে সব সুপারিশ একত্রিত করে সরকারের কাছে উপস্থাপন করব। কিন্তু এখনো তা দেওয়া হয়নি।
রোডম্যাপ অনুসারে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন শর্ত প্রতিপালনসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করার কথা। তথ্য পর্যালোচনা করে শর্তভঙ্গকারী দলের নিবন্ধন বহালসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা গত জানুয়ারিতে; কিন্তু এখনো সেটা হয়নি।
এ বিষয়ে ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ বলেন, ইলেকশন কমিশন এগুলো নিয়ে ভাবছে। আশা করি যথাসময়ে সব হয়ে যাবে।