রোগ প্রতিরোধে কার্যকরী বেল

কথায় আছে, ন্যাড়া বেলতলায় একবারই যায়। তবে বেলতলায় একবার গেলেও বেল কিন্তু শুধু একবারই খাবেন না। কেননা এখন বেল খেতে বেলতলায় যেতে হয় না, বরং বাজারেই ছোট-বড় সাইজের অনেক বেল কিনতে পাওয়া যায়। এটি আমাদের দেশের দারুণ জনপ্রিয় একটি ফল। অন্যান্য ফলের তুলনায় এর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কিন্তু কম নয়। গরমের দিনে এক গ্লাস বেলের শরবত শরীর ও মনে তৃপ্তি যোগায়। পেটের নানা রকম রোগ সারাতেও জাদুর মতো কাজ করে বেল। এছাড়া কাঁচা বেল ডায়রিয়া ও আমাশায় রোগে ধন্বন্তরী ওষুধ হিসাবেও বিবেচিত।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, পাকা বেলে ভিটামিন ‘সি’ ও ‘এ’ প্রচুর পরিমাণে থাকে। এর ভিটামিন ‘সি’ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে তোলার পাশাপাশি শরীরে ছোঁয়াচে রোগের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার ক্ষমতা তৈরি করে। কাজেই রোগ প্রতিরোধে বেশি করে বেল খান।

এবার আমাদের সময়ের পাঠকদের জন্য বেলের আরও নানা উপকারিতার কথা জানিয়ে দেওয়া হলো-

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে
বেলের পুষ্টিগুণ অন্যান্য ফলের তুলনায় অনেক বেশি। তাই নিয়মিত বেল খেলে কোষ্ঠ্যকাঠিন্য থেকে মুক্তি মেলে। এর বীজগুলো পিচ্ছিল হওয়ায় তা পাকস্থলীতে উপকারী পরিবেশ তৈরি করে। এতে খাবার সঠিকভাবে হজম হয়। এছাড়া দীর্ঘ বছরের কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে ক্ষতিকর নানা অসুখের হাত থেকে বাঁচতে নিয়মিত বেল খাওয়ার বিকল্প নেই।

হজম সমস্যার সমাধান
বেলে আঁশ বিদ্যমান রয়েছে, যা গ্যাস-এসিডিটি কমাতে সাহায্য করে। এর ফলে হজম সংক্রান্ত নানা সমস্যার সহজেই সমাধান হয়।

মলদ্বারের সমস্যায় উপকারী
যাদের মলদ্বারের সমস্যা আছে অর্থাৎ পাইলস, অ্যানাল ফিস্টুলা, হেমোরয়েড রয়েছে, এমন রোগীদের জন্য বেল অনেক উপকারী ঔষধ। নিয়মিত বেল খেলে এসব সমস্যা সহজেই চলে যায়।

ছোঁয়াচে রোগ দূর করে
বসন্ত ও গ্রীষ্মকালীন ছোঁয়াচে রোগগুলো থেকে বাঁচার জন্যও বেল খাওয়া জরুরি।

কঠিন রোগ মোকাবেলায়
বেলের ভিটামিন ‘এ’ চোখের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলোকে পুষ্টি জোগায়। এছাড়া যারা নিয়মিত বেল খাযন, তাদের কোলন ক্যান্সার, গ্লুকোমা, জেরোসিস, জেরোপথ্যালমিয়া হওয়ার প্রবণতা থাকে তুলনামূলকভাবে অনেক কম।

ঠাণ্ডা সমস্যা সমাধানে
সর্দি হলে বেল পাতার রস ১ চামচ খেলে সর্দি আর জ্বর ভাব কেটে যায়। কাজেই সুস্থ থাকতে নিয়মিত বেলের রস খান।

আলসার নিরাময়ে
কচি বেল টুকরা করে কেটে রোদে শুকিয়ে নিলে তাকে বেলশুট বলে। যাদের আলসার আছে তারা বেলশুটের সঙ্গে পরিমাণমতো বার্লি মিশিয়ে রান্না করে নিয়মিত খান। এতে আলসার দ্রুত সেরে যাবে।

কানের ব্যথা উপশমে
শিশুদের কানের ব্যাথা ও ইনফেকশন সারাতে বেল পাতার জুড়ি নেই। বেল পাতা ও তিলের তেল জ্বাল দিয়ে ওই তেল ড্রপার দিয়ে কানে দিলে ব্যথা সেরে যায়।

ত্বকের যত্নে
ত্বক সুন্দর করতে এবং ব্রণের দাগ দূর করতেও বেলের জুড়ি মেলা ভার।