Smiley face

রাজশাহী প্রতিনিধি :
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার বেড়াবাড়ী ডাইংপাড়ার তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র ফজলে হোসেন রাব্বি অপহরণ ও হত্যা মামলায় তিনজনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে অপর এক আসামীকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয়া হয়। মঙ্গলবার বিকেলে রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক শিরীন কবিতা আখতার এ রায় ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এ্যাডভোকেট এন্তাজুল হক বাবু বলেন, ৩০২ ধারায় দোষি সাব্যস্ত করে তিনজনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেকের ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। মামলার অপর এক আাসামীকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়াও তিন আসামীকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় সাত আসামীকে আদালতে হাজির করা হয় বলে জানান তিনি।

মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামীরা হলেন, উপজেলার বেড়াবাড়ি ডাইংপাড়ার আবুল কাশেমের ছেলে মাজেদুর রহমান সাগর, হযরত আলীর ছেলে নাজমুল হক, আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে রিপন সরকার লিটন। যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রাপ্ত আসামীর নাম আসিনুর বেগম। তিনি মৃতুদন্ডপ্রাপ্ত আসামী মাজেদুর রহমানের মা।

অপরদিকে মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন আবুল কাসেম (৫০), আমিনুল ইসলাম (২৪) ও সাহাবুদ্দিন (২২)।

আইনজীবী এন্তাজুল হক বলেন, গত ২৯ নভেম্বর ৭ আসামিকে আদালতে হাজির করে আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শোনেন বিচারক শিরীন কবিতা আখতার। ওই দিন আসামীদের জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন এবং ১৯ ডিসেম্বর মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। এই মামলায় বাদি পক্ষের ১৮ জন এবং আসামি পরে ২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।

মামলার বরাদ দিয়ে আইনজীবী এন্তাজুল হক জানান, ২০১৪ সালের ২০ ডিসেম্বর সন্ধ্যা অনুমানিক সাড়ে ৬ টার দিকে বেড়াবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র ফজলে হোসেন রাব্বিকে (১০) অপহরণ করা হয়। ওই দিনই দেহ থেকে মাথা ও ডান হাত বিচ্ছিন্ন করে লাশ বস্তায় ভরে জনৈক হাবিবুর রহমানের ধান খেতের ডিপটিউবওয়েলের নালায় পুঁতে রাখে হত্যাকারীরা। এরপর হত্যাকারীরা ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে রাব্বির পিতা আলী হোসেনকে মোবাইল করে।

২৪ ডিসেম্বর টাকা নিয়ে রাব্বিকে ছাড়ার কথা থাকলেও আসামিদের মোবাইল বন্ধ থাকে। আলী হোসেন প্রথম ২০ ডিসেম্বর মোহনপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি এবং ২৪ ডিসেম্বর এজাহার করেন। এর দুই দিন পর ২৬ ডিসেম্বর শিশু রাব্বির লাশ পাওয়া যায়। পুলিশ মোবাইল ফোনের কলের সূত্র ধরে আসামিদের গ্রেপ্তার করে এবং পরে আসামি সাগর ও আসিনুর বেগম দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেয়। পরে পুলিশ মামলার তদন্ত করে সাতজনকে বিরুদ্ধে আদালতে চার্জসীট দাখিল করে।

LEAVE A REPLY