রাজশাহীতে নারী কর্মীদের উপর ছাত্রলীগের হামলা, আইএইচটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ

0
147
print
রাজশাহী প্রতিনিধি :
রাজশাহীতে নিরাপত্তার দাবিতে আন্দোলনরত নিজ দলের নারী কর্মীদের উপর হামলা করেছে ছাত্রলীগ নেতারা। রাজশাহী ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজিতে (আইএইচটি) এ হামলায় অন্তত ৫ জন আহত হন। যাদের মধ্যে তিনজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি কর হয়েছে।

এ ঘটনার জের ধরে ইনস্টিটিউট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে দুপুর ১টার মধ্যে ছাত্রদের এবং ৩টার মধ্যে ছাত্রীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বহিরাগতসহ ছাত্রলীগের নেতাদের উৎপাত ও নিরাপত্তার দাবিতে আইএইচটি‘র ছাত্রীরা সকালে সাড়ে ১০টার দিকে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধে করে বিক্ষোভ করে। এতে নেতৃত্ব দেন ছাত্রলীগের নারী কর্মীরা। আন্দোলনে সমর্থণ দিয়ে ছাত্রলীগের একটি অংশ তাদের পাশে ছিল। পরে পুলিশ গিয়ে আন্দোলনরত ছাত্রীদের অধ্যক্ষের কক্ষ থেকে বের করে দেয়। ছাত্রীরা অধ্যেক্ষের কক্ষ থেকে বের হয়ে হলের সামনে অবস্থান নেয়।

এসময় ছাত্রলীগের সভাপতি জাহিদ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক তুহিনের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ছাত্রীদের বিরুদ্ধে শ্লোগান দেয়। এর এক পর্যায়ে পুলিশী বেরিকেট ভেঙ্গে গিয়ে আন্দোলনরত ছাত্রীদের মারপিট করে। এসময় ছাত্রদের পাশে থাকা ছাত্রলীগের এক কর্মীকেও মারপিট করে তারা।

হামলায় মিম, জতি, মহুনা ও নাদিরাসহ পাঁচজন আহত হন। এদের মধ্যে জতি, মহুনা ও নাদিরাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

নারী ছাত্রলীগ কর্মী নাদিরা জানান, দীঘদিন যাবৎ ছাত্রলীগ সভাপতি জাহিদ ও সাধারণ সম্পাদক তুহিনসহ তার অনুসারিরা ছাত্রীদের বিভিন্নভাবে নির্যাতন, অকথ্য ভাষায় গালাগলি এমনকি যৌন হয়রানি করে আসছে। তাদের এমন আচরণের কারণে গত ৩ নভেম্বর ছাত্রলীগের নারী কর্মীরা তাদের কর্মসূচী উপস্থিত হয়নি। তারা নগর ছাত্রলীগের কর্মসূচীতে অংশ নেয়ার জন্য বের হলে জাহিদ ও তুহিন হলের গেটে বাহির থেকে তালা দেয়। তাদেরকে নগর ছাত্রলীগের অনুষ্ঠানে যেতে দেয়া হয়নি। এসময় তারা দুই নারী ছাত্রলীগ কর্মীকে চড়থাপ্পড় মাড়ে। এর পর থেকে তাদের হলের সাধারণ ছাত্রীসহ নারী ছাত্রলীগ কর্মীদের উপর নির্যাতন বেড়ে যায়। এর প্রতিবাদে তারা অধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করে।

নাদিরা আরও বলেন, কয়েকমাস আগে জাহিদ ও তুহিনের ছাত্রত্ব শেষ হয়ে গেছে। এর পরও তাদের কলেজের ছাত্রলীগের নেতৃত্ব ধরে রাখতে হলে অবস্থান করে বিভিন্নভাবে ছাত্রীদের নির্যাতন করে আসছে।

রাজপাড়া থানার ওসি হাফিজুর রহমান হাফিজ জানান, আন্দোলনরত ছাত্রীদের উপর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালানোর চেষ্টা করে। এসময় পুলিশ গিয়ে তাদের প্রতিহত করে। পুলিশের ধাওয়া খেয়ে তারা ক্যাম্পাস ছেড়ে পালিয়ে যায়। পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়। ক্যাম্পাসে পুলিশ অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

অধ্যক্ষ ডা: সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘বিভিন্ন দাবি নিয়ে ছাত্রীরা আমার কাছে এসেছিলো। দাবি মানার আশ্বাস দিয়ে ছাত্রীদের হলে পাঠানো হয়। কিন্তু হলের সামনে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে।

অধ্যক্ষ বলেন, এই ঘটনার পরে তাৎক্ষনিকভাবে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভা ডাকা হয়। সভা শেষে রাজশাহী অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা করা হয় বলে জানান তিনি।

LEAVE A REPLY