রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে প্রবৃদ্ধি কম: অর্থমন্ত্রী

রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি বাড়েনি বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেন, বিগত দিনে উন্নয়নের সাথে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ তেমন বাড়েনি। এর মূল কারণ রাজনৈতিক অস্থিরতা। এখন শান্তি শৃঙ্খলা রয়েছে। আগামী দুই বছরে জিডিপিতে বেসরকারি বিনিয়োগের পরিমান ৩২ শতাংশ হবে।

আজ সন্ধ্যায় বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে ‘বর্তমান সরকারের উন্নত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেন, দেশে যেভাবে উন্নয়ন অগ্রগতি হচ্ছে তা অব্যাহত থাকলে আগামী দুই বছরে বিনিয়োগ জিডিপির ৩২ শতাংশ হবে।যা বর্তমানে ৩০ শতাংশের নিচে রয়েছে। এতে করে প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ হবে বলে আমি মনে করি।

তিনি বলেন, বিগত দিনে উন্নয়নের সাথে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ তেমন বাড়েনি। এর মূল কারণ রাজনৈতিক অস্থিরতা। শান্তি শৃঙ্খলা উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। বর্তমানে দেশে শান্তি শৃঙ্খলা রয়েছে। ফলে আমরা আশা করি আগামী ২০৪১ মধ্যে বাংলাদেশ তার কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সক্ষম হবো। দারিদ্র দূরীকরণে পৃথিবীতে অন্যতম বাংলাদেশ উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, এখন বৈষম্য নিরষণে আমরা সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির উপর জোর দিচ্ছি। তাই এ খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো ওপর বিশেষ গুরত্ব দিচ্ছি।

সভায় মূল বক্তব্যে জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ও বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ড. একে আব্দুল মোমেন বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রগতি ভালো। তবে টেকসই উন্নয়ন করতে হলে আমাদের বেশ এগিয়ে যেতে হবে। বর্তমানে আমরা নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে রয়েছে। উচ্চ মধ্য-আয়ের দেশে উন্নতি করতে হলে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়তে হবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, উন্নয়নের প্রতিবন্ধকতা দুরীকরণ, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করা, প্রশাসন ও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, সচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানো, মানব সম্পদের মানউন্নয়ন ইত্যাদি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বলেন, উন্নয়নের জন্য অবকাঠামোগত সমস্যা দূর করতে হবে। প্রতি বছর ২০ লাখ লোক শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। এর মধ্যে মাত্র ৪ লাখ লোকে কর্মসংস্থান হচ্ছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে রেমিটেন্স আয় কমে যাচ্ছে। তবে এই প্রবণতা অব্যাহত থাকবে না। অল্প সময়ের মধ্যে রেমিটেন্স প্রবাহ বাড়বে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহাঃ রাজী হাসান, সিতাংশু কুমার সুর চৌধুরী ও এস.এম মনিরুজ্জামান, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য সিনিয়র সচিব ড. শামসুল আলম এবং বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট মশিউর রহমান। এতে সভাপতিত্ব করেন বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ ব্যাংক শাখার সভাপতি হাবিবুর রহমান।