রমজান ও পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে রাজধানীর প্রত্যেক থানার ওসি ও পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।

এসব নির্দেশের মধ্যে রয়েছে জঙ্গিদের ব্যাপারে সতর্ক থাকা, মাদকের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান, অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক, ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে একীভূত হয়ে কাজ, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, অজ্ঞানপার্টি, মলমপার্টির ওপর কঠোর নজরদারি, বিপণিবিতানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং টাকা স্থানান্তরে মানিস্কট প্রদান প্রভৃতি।

এসব বিষয়ে ৪৯ থানার ওসি ও পুলিশ কর্মকর্তাদের অন্তত ৯টি নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। সোমবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সদর দফতরে আয়োজিত মাসিক ক্রাইম কনফারেন্সে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এসব নির্দেশনা দেয়া হয়।

কনফারেন্সে সদর দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়াও ডিএমপির ৮টি বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার, সহকারী পুলিশ কমিশনার, গোয়েন্দা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার, সহকারী পুলিশ কমিশনারসহ ৪৯টি থানার ওসি উপস্থিত ছিলেন।

একাধিক থানার ওসি ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতি মাসেই সদর দফতরে পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়ে মাসিক কনফারেন্স হয়। এতে রাজধানীতে সারা মাসের অপরাধ নিয়ে পর্যালোচনা হয়। এমনকি কৃতিত্বের জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের পুরস্কৃতও করা হয়। তবে সোমবারের কনফারেন্স ছিল একটু ভিন্ন।

মাসিক অপরাধ পর্যালোচনার পরপরই উঠে আসে রমজানের নিরাপত্তার বিষয়। রমজানে বিভিন্ন বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ও ওসিদের কঠোর নির্দেশনা দেন ডিএমপি কমিশনার।

রমজানে যাতে জঙ্গিরা মাথাচাড়া দিতে না পারে সেজন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি অ্যালার্ট থাকতে বলেন ডিএমপি কমিশনার। তিনি বলেন, রমজানেই হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলা হয়েছিল। মাদকের বিরুদ্ধে রমজানে সাঁড়াশি অভিযানেরও নির্দেশনা দেন তিনি।

নগরবাসী যেন ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে রোজা ও ঈদুল ফিতর উদযাপন করতে পারে- সে ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা দেন। অন্যান্য সংস্থা ও বাহিনীর সঙ্গে পুলিশকে সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে কাজ করার নির্দেশনা দেন কমিশনার।

এছাড়া এপ্রিলে ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পুলিশের এএসআই-ওসি থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের পুরস্কৃত করা হয় এ কনফারেন্সে। তাদের হাতে নগদ অর্থ ও সম্মাননা তুলে দেন ডিএমপি কমিশনার।