রংপুরের আলু চাষীরা লাভের আশায় আলু চাষ করে এবারে মোটা অঙ্কের লোকসানের মুখে পড়েছে। অনেক কৃষক আলুর উৎপাদন খরচই তুলতে না পেরে মাথায় হাত পড়েছে। জেলার বিভিন্ন হাট বাজারে প্রতি কেজি আলু প্রকার ভেদে বিক্রি হচ্ছে চার থেকে ছয় টাকা কেজিতে। তবে কৃষকেরা জানান, এ দামেও ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে খরচ হচ্ছে সাত থেকে আট টাকা। রংপুর জেলার সবচাইতে বেশি আলু উৎপাদন হয় রংপুর সদর, পীরগাছা ও মিঠাপুকুর উপজেলায়। তবে এবার শীত ও ঘন কুয়াশার কারনে উৎপাদন খরচও বেড়েছে। গত বছর এক একর জমিতে আলু চাষ করতে খরচ হয়েছিল ১৬ হাজার টাকা। এবার তা বেড়ে তা দাড়িয়েছে ২০ থেকে ২২ হাজার টাকায়। এই এলাকায় সবচেয়ে বেশি চাষ হয় কার্ডিনাল জাতের আলু। এই আলু জেলার হাট বাজারগুলোতে প্রতি বস্তা বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকা, গ্রানুলা ৫০০ টাকা এবং ডায়মন্ড জাতের ৫৫০ টাকা দরে কেনাবেচা হচ্ছে। তবে এই দামেও ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না বলে কৃষকেরা জানান। রংপুরের পীরগাছা উপজেলার পারুল ইউনিয়নের বিরাহিম গ্রামের আলু চাষী দুলাল সরকার জানান, এবার তিনি ৭ একর জমিতে জমিতে কার্ডিনাল জাতের আলু চাষ করেছেন। খরচ হয়েছে প্রায় ৪ লাখ টাকা। আর আলু বিক্রি করছেন ৫ টাকা কেজি দরে। তিনি বলেন, আলু বীজ, কীটনাশক ও কিষাণের দাম বেড়ে যাওয়ায় এবার আলুর উৎপাদন খরচ বেড়েছে। এবছর জমি তৈরি থেকে শুরু করে বীজ রোপন এবং আলু ঘরে তোলা পর্যন্ত একরে খরচ হয়েছে ১৮ হাজার টাকা। একদিকে দাম কম অন্যদিকে ক্রেতা না থাকায় আলু বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান তিনি। মওসুমের শুরুতেই দেশের বিভিন্ন জেলায় রংপুরের আলুর চাহিদা ছিল। গত বছর প্রচুর পরিমাণে আলু রপ্তানিও করা হয়। তখন জাত ভেদে প্রতি বস্তা আলু ৭০০-৮০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কিন্তু চলতি মাসের শুরু থেকে বাইরের জেলায় আলু রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সরবরাহ অনুযায়ী ক্রেতা না থাকায় আলুর দাম পড়ে গেছে বলে চাষী ও ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। হিমাগার মালিক রংপুর চেম্বারের সাবেক সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু বলেন, গত বছর হিমাগারে আলু রেখে মোটা দাগে লোকসান গুণেছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। এবছর কৃষকেরা তাদের জমিতেই আলু বিক্রি করে দিচ্ছে। রংপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মওসুমে রংপুরের আট উপজেলায় ৫১ হাজার ২৭৫ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ লাখ ১ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন।