যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং–উন একটি যৌথ চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করছেন। একে গুরুত্বপূর্ণ নথি বলা হলেও তাতে কী আছে, এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি। সিঙ্গাপুরের সেন্তোসা দ্বীপের ক্যাপেলা হোটেলে ট্রাম্প ও কিমের একান্ত বৈঠক ও পরে দুই পক্ষের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এরপর গুরুত্বপূর্ণ নথিতে সই করার ঘোষণা এল। একান্ত বৈঠক শেষে দুজনকে হাসিমুখেই বের হতে দেখা যায়। তাই ঘটনাটিকে শান্তির পথে ইতিবাচক সূচনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
গণমাধ্যমকর্মীদের ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমরা খুব গুরুত্বপূর্ণ নথি সই করছি। একটি দারুণ বিস্তারিত দলিল।’ এতে কী আছে, তা পৃথক সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ করা হবে। এটি জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম বলেছেন, বৈঠক আয়োজন করার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে চান তিনি।

অনুবাদকের সাহায্য কিম বলেন, ‘ঐতিহাসিক এক বৈঠক হয়েছে। অতীতকে পেছনে ঠেলে ঐতিহাসিক একটি নথিতে সই করতে যাচ্ছি।’ বিশ্ববাসীর চাওয়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে তিনি বলেন, ‘বিশ্ব ব্যাপক একটি পরিবর্তন দেখবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেছেন, নথিতে সইয়ের অর্থ দাঁড়ায় আলোচনার অগ্রগতি হয়েছে এবং এর গতি বজায় থাকবে।

সিঙ্গাপুরের দ্য স্ট্রেইট টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আজ সকাল ১০টার কিছু আগে দুই নেতা সিঙ্গাপুরের সেন্তোসা দ্বীপের ক্যাপেলা হোটেলের বারান্দায় হাসিমুখে দেখা দেন। উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে হাত নাড়েন তাঁরা।

আজ দিনের শুরুতে অবশ্য দুই নেতার মধ্যে কোনো চুক্তির আগাম তথ্য ছিল না। স্থানীয় সময় সাড়ে ১১টায় দুপুরের খাবারের পর দীর্ঘসময় কোনো কাজ রাখা হয়নি।

বিরতির সময় কিমের সঙ্গে হোটেলের আঙিনায় কিছুক্ষণ হাঁটেন ট্রাম্প। এরপর ট্রাম্প ঘোষণা দেন, দুপুরের পর একটি নথি সই হতে পারে।

এদিকে, ট্রাম্পের সঙ্গে হাঁটার সময় কিমকে প্রেসিডেন্টের লিমুজিন গাড়ির ভেতরটা দেখতে দেওয়া হয়। টেলিভিশন ফুটেজে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার কর্মীরা ‘বিস্ট’ নামের গাড়ির ভেতরটা দেখান।

আজ স্থানীয় সময় বিকেল চারটার দিকে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলবেন ট্রাম্প। সেখানেই নথির বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে পারেন।

সিএনএন জানিয়েছে, খাবারের টেবিলে বেশ প্রাণবন্ত ছিলেন ট্রাম্প। তিনি কৌতুক করে আলোকচিত্রীদের বলেছেন, এমনভাবে ছবি তোলো যাতে তাঁদের সুদর্শন আর পাতলা দেখায়।

উত্তর কোরিয়ার দিক থেকে আজকের বৈঠকটিকে খুব সূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সিএনএন বলছে, সিঙ্গাপুরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকের সময় তাঁদের সমানভাবে দেখা হচ্ছে কিনা সে বিষয়ে উত্তর কোরিয়রা খুব সচেতন ছিল। বিশেষ করে আনুষ্ঠানিকতা ও নিরাপত্তার দিক থেকে তাদের কীভাবে মর্যাদা দেওয়া হচ্ছে সে বিষয়টি তারা খেয়াল রাখছে।