যত স্বৈরাচারী শাসক ছিল তাদের পতন হয়েছে ড. আব্দুল মঈন খান।

Smiley face

জনগণ যখন আন্দোলন শুরু করবে তার ফল বর্তমান সরকারকে ভোগ করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান।

তিনি বলেছেন, ‘এটা কাউকে বলে দেয়ার প্রয়োজন হয় না যে, বাংলাদেশের মানুষের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য কি করতে হয়। সেটা বুঝে তারা যেকোনো মূল্যে তা ফিরিয়ে আনবে।’

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে তারেক জিয়া সাইবার ফোর্স আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, ‘দুর্বলের ওপর সবলের অত্যাচার এটা বারবারই হয়ে থাকে। আমরা পৃথিবীর ইতিহাসে দেখি তার মানে এই নয়, সকলের ওপর করবে। সেটা একটি অন্যায় এবং দুর্বলেরা একদিন না একদিন সবল এই অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। ’

তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর ইতিহাসে দেখা যায় যত স্বৈরাচারী শাসক ছিল তারা সবাই একদিন ধূলিস্যাৎ হয়ে গেছে। তারা কোনদিন চিরস্থায়ী হয়নি। যেকোনো পর্যায়ে হোক না কেন সেই স্বৈরাচারী সরকারকে বিদায় নিতে হয়েছে। কাজেই আজকের যে স্বৈরাচার পৃথিবীজুড়ে সবাই জেনে গেছে।’ কাজেই বাংলাদেশের মানুষ একদিন না একদিন এদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ক্ষমতাসীনরা বিএনপির আন্দোলন নিয়ে হাসি মশকরা করে দাবি করে নিজ দলের নেতাকর্মীদের পরামর্শ দিয়ে বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, ‘তখন আপনারা বলবেন, আমরা আওয়ামী লীগের মত বিশৃঙ্খলা ভাবে আন্দোলন করি না। আমরা তাদের মত লগি-বৈঠা নিয়ে আন্দোলন করি না। আমরা শান্তিপূর্ণ গণতন্ত্রের আন্দোলনে বিশ্বাসী। গত তিন মাস যাবত আমরা তাই করে যাচ্ছি এবং বেগম খালেদা জিয়া আমাদের সেই নির্দেশ দিয়ে গেছেন।’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আমাদের যে একটি উদ্দেশ্য সে উদ্দেশ্যে পৌঁছার জন্য নিজের মনকে শক্ত করুন ইনশাল্লাহ আমরা আমাদের উদ্দেশ্য সফল হব।’

সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের যে অন্যায় উদ্দেশ্য তা তছনছ করে দিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করব এবং এ দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবো যে রকম একবার করেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।’

আয়োজক সংগঠনের সাধারন সম্পাদক ফাতেমা খানমের সভাপতিত্বে এবং ঢাকা বিভাগের সাধারণ সম্পাদক পলাশ মন্ডলের সঞ্চালনায় প্রতিবাদ সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন, মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের প্রচার সম্পাদক লায়ন সাইফুল ইসলাম সেকুল প্রমুখ।