ম্যাচের পরিণতি বাংলাদেশের ভাগ্যে পরাজয়।

    ওয়েস্ট ইন্ডিজের জর্জটাউন, ভারতের দেরাদুন, ভারতের ব্যাঙ্গালুরু এবং জিম্বাবুয়ের হারারে। এই চার জায়গার মধ্যে একটি মিল আছে। তা হলো দারুণ খেলা মুশফিক শেষ ওভারে ক্রিজে। জয় বাংলাদেশের হাতের নাগালে। উইকেটের লেগ সাইডে মুশফিকের তুলে মারা শট এবং তিনি আউট। ম্যাচের পরিণতি বাংলাদেশের ভাগ্যে পরাজয়।

    ভারতের দেরাদুনের কথা মনে আছে নিশ্চয়। ক’দিন আগের কথা। আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি২০তে বাংলাদেশকে জয়ের প্রান্তে নিয়ে যান মুশফিক। শেষ ওভারে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান মুখোমুখি হন রশিদ খানের। জায়গা বদল করে খেললেই হয়তো বাংলাদেশ সহজে জয় পেতে পারতো। কিন্তু মুশফিক লেগ সাইডে রশিদ খানকে স্লগ সুইপ করলেন। তা থেকে কোন বাউন্ডারি হলো না। তবে আউট হয়ে ফিরে গেলেন মুশফিক। আর বাংলাদেশ ওই ম্যাচে হেরে টি২০ তে আফগানদের কাছে ধবলধোলায় হলো।

    ভারতের ব্যাঙ্গালুরুতে ২০১৬ সালের টি২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচের কথা ভোলার কথা নয়। ভারতের বিপক্ষে জয় উদযাপনও করা হয়ে যায় বাংলাদেশের। আর দলকে জয়ের প্রান্তে নিয়ে যান মুশফিক। কিন্তু হার্দিক পান্ডিয়ার ফুলটস বলে ছক্কা হাকাতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। এবারও মুশফিক লেগ সাইডে ধরা পড়লেন। অথচ সিঙ্গেল নিলেও বাংলাদেশ নিশ্চিত জয় পেত।

    জিম্বাবুয়ের হারারেতেও বাংলাদেশের এমন একটি পরাজয় আছে। সেবারও মুশফিক দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান। কিন্তু শেষ ওভারে নায়ক হতে পারেননি তিনি। গায়ানায় বুধবার ক্যারিবিওদের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচের শেষ ওভারে একই পরিস্থিতিতে ছিলেন মুশফিক। জেসন হোল্ডারের ফুলটস বলে একই শট নিয়ে আউট হয়েছেন তিনি।

    শেষ সাত বছরে বাংলাদেশ এমন টানটান উত্তেজনার মুখোমুখি হয়ে পাঁচবার হেরেছে। শেষ সময়ে মুশফিক কেন দলকে জয় এনে দিতে পারেন না? কিংবা শেষ সময়ে কেন ‘বিলাসী’ শট বেছে নেন- এটাও একটা প্রশ্ন হতে পারে। আরেকটি প্রশ্ন হলো, কেন মুশফিক বাউন্ডারি মেরে মেলাতে চান? এর কারণ অবশ্য ভালো বলতে পারবেন তিনিই। তবে উত্তেজনার মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারা-এর একটি কারণ হতে পারে। শেষ সময়ে বাউন্ডারি মেরে দলকে জিতিয়ে ‘নায়ক’ হওয়ার আকাঙ্খাও কাজ করতে পারে!

    তবে কারণ যাই হোক; মুশফিককে বিষয়টির সঙ্গে দ্রুত বোঝাপড়া করে নিতে হবে বলে মনে করছেন ক্রিকেটবোদ্ধারা। শেষ মুহূর্তে চাপ সামলানোর উপায়টাও খুঁজে বের করতে হবে তাকে।