মোমবাতি আর হাতপাখা দিয়ে চলতে হয় খালেদা জিয়াকে: ফখরুল

কারাগারে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অারও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে দাবি করে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম অালমগীর বলেছেন, খালেদা জিয়ার সঙ্গে ন্যূনতম মানবিক আচরণও করা হচ্ছে না। পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে যেখানে খালেদা জিয়াকে রাখা হয়েছে, সেখানে কোনও জেনারেটর নেই। প্রায় বিদ্যুৎ চলে যায়। বিদ্যুৎ চলে গেলে মোমবাতি ও হাতপাখা দিয়ে চলতে হয় খালেদা জিয়াকে। এই যে অমানবিকতা ও হৃদয়হীন আচরণ, এর কোনও তুলনা নেই।

তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্রতি রাতে জ্বরে অাক্রান্ত হচ্ছেন, হাঁটুর ব্যথায় হাঁটতে পারছেন না। তিনি আরও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম অালমগীর এসব কথা বলেন।

কারাবন্দি দলীয় চেয়ারপারসনের শারিরীক অবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, মঙ্গলবার খালেদা জিয়ার সঙ্গে পরিবারের সদস্যরা দেখা করেছেন। তারা দেখেছেন তিনি অত্যন্ত অসুস্থ। এমন অসুস্থ যে তিনি ঠিকমতো হাঁটতে পারছেন না। কারাগারের স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশ, বিশুদ্ধ পানির অভাব, গুমোট আবহাওয়া ও নিয়মিত বিদ্যুৎহীনতার কারণে দেশনেত্রীর শ্বাসকষ্ট ও জ্বর লেগেই আছে। প্রতি রাত্রে তার জ্বর আসছে। এটা যে কোনো সুস্থ মানুষের জন্য অত্যন্ত এলার্মিং। জ্বরটা যাচ্ছে না। পরিত্যক্ত এই কারাগারে এখন কোনো জেনারেটর নেই; প্রায়ই বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। বাতি জ্বলে না, মোমবাতি ও হাতপাখা দিয়ে কাজ চালাতে হয়। এই যে অমানবিকতা, এই যে হৃদয়হীনতা- এটার তুলনা নেই!

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা যখন কেন্দ্রীয় কারাগারে ছিলাম, সেখানে কখনও বিদ্যুৎ যেতে না। কারণ, সেখানে সার্বক্ষণিক জেনারেটরের ব্যবস্থা ছিল। এখন খালেদা জিয়াকে যেখানে রাখা হয়েছে সেটা কোনও দিক দিয়ে কারাগারের সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে না। সাধারণ প্রথম শ্রেণির বন্দি হিসেবে খালেদা জিয়ার যে প্রাপ্য অধিকার, সেটুকুও তিনি পাচ্ছেন না।

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান এজেডএম জাহিদ হোসেন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।