মোবাইলের সিম নিবন্ধনের সময় এক মাস বাড়ল

0
245
Smiley face

বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে মোবাইল ফোনের সিম পুনর্নিবন্ধনের সময়সীমা এক মাস বাড়িয়েছে সরকার। নতুন সময়সীমায় আগামী ৩১ মে রাত ১২টা পর্যন্ত সিম পুনর্নিবন্ধন করা যাবে। এরপর যেসব সিমের পুনর্নিবন্ধন হবে না, সেগুলো বন্ধ করে দেয়া হবে। বাড়তি সময়সীমার পর আর কোন সময় দেয়া হবে না। শনিবার বিটিআরসিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নানা কারণে কয়েক কোটি সিম রিম অনিবন্ধিত থাকায় বিভিন্ন মহলের দাবির প্রেক্ষিতে আরও এক মাসের সময় বাড়ানো হলো। এই বাড়তি সময়ের মধ্যেই সিম, রিম নিবন্ধন করতে হবে। এরপর আর কোন সময় বাড়ানো হবে না। অপরাধ কাজে সিমের ব্যবহার এত বেশি পরিমাণ বেড়েছিল যে সিম রিম পুনর্নিবন্ধনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছিল। অপরাধ কাজে সিমের ব্যবহার এখন অনেকাংশে কমে গেছে। গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর থেকে আঙুলের ছাপ নিয়ে মোবাইল সিম পুনর্নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু করা হয়, যার সময়সীমা ছিল ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত। কিন্তু কয়েক কোটি সিম নিবন্ধনের বাইরে থাকার কারণে এবং জনগণের সুবিধার জন্যে এক মাস সময় দেয়া হলো। এই সময়কে কাজে লাগানোর জন্য প্রতিমন্ত্রী সবাইকে অনুরোধ জানান। শেষ মুহূর্তে এসে যেন কাস্টমার কেয়ার, রিটেইলার ও এজেন্টদের কাছে ভিড় না জমান। তারা যেন বাড়তি সময়ের মধ্যে তাদের সিম, রিম নিবন্ধন করে নেন। মোবাইল অপারেটরদের তথ্য অনুযায়ী শেষ দিন শনিবার পর্যন্ত ৮ কোটি ৩৮ লাখ সিম, রিম বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে পুনর্নিবন্ধিত হয়েছে। এ যাবত অপারেটররা ১৩ কোটি মোবাইল সিম বিক্রি করেছে। এ হিসেবে এখনও প্রায় ৫ কোটি সিম নিবন্ধন হয়নি। ৫ কোটি সিম রিম নিবন্ধনে এই সময় যথেষ্ট বলে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে তারানা বলেন, ৩১ মে রাত ১২টার মধ্যে যদি কেউ সিম নিবন্ধন না করেন তাহলে কোন সতর্কসঙ্কেত ছাড়াই আমরা সম্পূর্ণভাবে সিমটি ডি-এ্যাকটিভ করে দেব। এখনও যারা সিম নিবন্ধন করেননি, তাদের পুনর্নিবন্ধনের জন্য সতর্কবার্তাও দেয়া হবে। তার আগে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে অনিবন্ধিত কিছু সিম ১ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এক বারের জন্য তিন ঘণ্টা বন্ধ রাখা হবে। যাতে গ্রাহক বুঝতে পারেন তার সিমটি নিবন্ধন করতে হবে। ৩১ মে রাত ১২টার পর যে সিমগুলো বন্ধ হয়ে যাবে পরবর্তী ১৫ মাসের জন্য সেগুলোর বিক্রি স্থগিত থাকবে। তবে বিদেশে বসবাসরত নাগরিকদের জন্য, শান্তিরক্ষা মিশন ও বিদেশে যারা চাকরি করেন তাদের নিবন্ধনের সুযোগ থাকবে দেড় বছর। তাদের সিম বা নম্বর কারও কাছে বিক্রি করা যাবে না।

এদিকে শেষ দিনে সিম নিবন্ধনে কারিগরি সমস্যার কথা স্বীকার করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শেষ দিনে এত বিপুল সংখ্যক গ্রাহক সিম নিবন্ধন করতে গিয়েছিলেন যে অপারেটরদের সার্ভারে সমস্যা দেখা দেয়। এক সঙ্গে এত লোড নিতে পারছিল না সার্ভারগুলো। যদিও অপারেটররা দোষ দিয়েছে এনআইডি সার্ভারের। এনআইডি সার্ভারের কোন সমস্যা নেই। এখানে মূলত ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের গতি কমে গিয়েছিল। তাই সাময়িক অসুবিধায় পড়তে হয়েছিল গ্রাহকদের। শুক্র ও শনিবার ছুটির দিন বলে মানুষ কেন্দ্রগুলোতে ভিড় জমায়। এই গরমে কষ্ট স্বীকার করে যারা সিম নিবন্ধন করেছেন তাদের আমি ধন্যবাদ জানাই। আমি নিজেও শুক্র ও শনিবার বাসায় না থেকে জনগণের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।

 

LEAVE A REPLY