মৃত ইউপি চেয়ারম্যানের সাক্ষর জাল করে বয়স বৃদ্ধি

সিংড়ায় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বাল্য বিয়ে

নাটোর প্রতিনিধি
নাটোরের সিংড়া উপজেলার সুকাশ ইউনিয়নের আনাচে কানাচে ঘটছে বাল্য বিয়ে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, কাজী ও ইমামদের কারসাজিতে এখনো অহরহ বাল্য বিয়ে হচ্ছে। এসব বাল্য বিয়ে দেওয়ার পূর্বে প্রশাসনকে অবহিত করা হলেও তারা নিরব ভূমিকা পালন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে করে স্থানীয় এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
জানা যায়, গত ১২ তারিখে বেলোয়া গ্রামের শ্রী প্রভাতের মেয়ে বর্ষা (১৪) নামের এক এসএসসি ফলপ্রার্থীর বিয়ে হয়। সকালে যখন বিয়ের আয়োজন করা হয়, তখন মেয়ের বয়স কম হওয়ায় বিয়ে বন্ধ করে দেয় সুকাশ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আঃ মজিদ। চেয়ারম্যানের কথা অমান্য করে রাতে বিয়েতে উপস্থিত থেকে বিয়ে সম্পন্ন করেন সুকাশ ইউনিয়ন পরিষদের ৩নং ওয়ার্ড সদস্য ছরমান আলী ও ৩নং ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য ইসমাইল হোসেন। জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বাল্য বিয়ে হওয়ায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে জনসাধারণের মনে। এমনকি বাল্য বিয়ের কথা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবহিত করার পরেও কোন পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। এছাড়াও গত ১৪ তারিখে রনবাঘা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীর হুসনেয়ারা (১৫) ও আমেনা (১৩) নামের দুই ছাত্রীর বাল্য বিয়ে সংঘটিত হয়েছে। তাদের বয়স বৃদ্ধি করার জন্য ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মৃত নজরুল ইসলামের সাক্ষর ও সীল ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ছরমান আলী বলেন, আমি মেয়ের বয়স যাচাইয়ের জন্য ২ মিনিটের জন্য সেখানে গিয়েছিলাম। কিন্তু বিয়ের সময় আমি উপস্থিত ছিলাম না। জন্ম সনদে বয়স বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, ইউনিয়ন তথ্য অফিসে কর্মরত রেজাউল ২০০-৩০০ টাকার বিনিময়ে ভূয়া কাগজপত্র দিয়ে থাকেন।

সুকাশ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আঃ মজিদ বলেন, আমি সবসময় বাল্য বিয়ের বিরুদ্ধে। আমার নিষেধের পরেও আমার ইউনিয়নে ৩টি বাল্য বিয়ে হয়েছে, যেটা খুব দুঃখজনক বিষয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সন্দ্বীপ কুমার সরকার জানান, বাল্য বিয়ে বন্ধের জন্য সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছিলো কিন্তু জন্ম নিবন্ধন সনদে তাদের বয়স ১৮ হওয়ায় আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারিনি। বয়স বৃদ্ধি করার জন্য ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মৃত নজরুল ইসলামের সাক্ষর ও সীল ব্যবহার করা হয়েছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও বলেন, ঘটনাটি সত্য প্রমানিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ইউএনও বাল্য বিয়ে বন্ধের জন্য পুলিশ পাঠানোর কথা বলে থাকলেও চেয়ারম্যান ও এলাকাবাসী জানান ঘটনাস্থলে কোনো পুলিশ যায়নি।