মুক্তামনির শারীরিক অবস্থার অবনতি

Smiley face

‘বিরল চর্মরোগে আক্রান্ত সাতক্ষীরার কামারবাইশা গ্রামের কিশোরী মুক্তামনির শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে। মুক্তার ডান হাতটা ফের ফুলে গেছে। কিছু জায়গায় ফুলে গিয়ে ফেটে গেছে। আবারো আগের মতো জন্মাচ্ছে পোকা। অস্ত্রোপচার করা স্থানে ফুটো হয়ে ঝরছে রক্ত। দুর্গন্ধে তার ঘরে যাওয়া যাচ্ছে না।’ গতকাল বৃহস্পতিবার মুক্তামনির বাবা ইব্রাহিম এ কথাগুলো জানান। এদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের প্রধান সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন ফোনে মুক্তার খোঁজখবর নিয়েছেন। তিনি তাকে জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকদের নিয়ে আলোচনায় বসবেন। মুক্তামনির বাবা ইব্রাহিম আরও বলেন, ডাক্তাররা তো সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। বর্তমানে আর নতুন করে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার অবস্থা নেই তার। তারপরও ডাক্তাররা বললে আমি তাকে নিয়ে ঢাকায় যাব। জানি না
কী হবে। বিদেশি ডাক্তাররা দায়িত্ব না নিলেও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দেশের সবচেয়ে বড় বড় ডাক্তাররা মুক্তার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। এখন আল্লাহ আমাদের একমাত্র ভরসা। ২০১৭ সালের জুলাই মাসে বিরল রোগে আক্রান্ত সাতক্ষীরার মুক্তামনিকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদন প্রকাশের পর এই শিশুর চিকিৎসার দায়িত্ব নেন স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তামনির চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনের দায়িত্ব নেন। মুক্তামনির চিকিৎসার জন্য মেডিকেল বোর্ড গঠনসহ সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে ঢামেক কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘ ছয় মাস চিকিৎসার পর হাতের অবস্থা কিছুটা ভালো হলে তাকে এক মাসের জন্য গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। বাড়িতে ফেরার পর আর ঢাকায় আসেনি। তবে চিকিৎসকের পরামর্শে তার চিকিৎসা চলেছে।