মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে মুখর বরেন্দ্র’র আম বাগান গুলো

Smiley face

ঘন কুয়াশা আর তীব্র শীতে এবার বরেন্দ্রর বাগানগুলোতে দেরিতে এসেছে আমের মুকুর। তবে পর্যাপ্ত মুকুল আসায় নওগাঁর সাপাহার ও পোরশার আম বাগানগুলো নিয়ে লাভের স্বপ্ন দেখছেন বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা। আর ভাল ফলন পাওয়ার আশায় বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত তারা। ইতোমধ্যে মুকুল ও আমের গুটি দেখে বাগানের দরদাম হাঁকছেন ব্যাপারিরা। কৃষি বিভাগ বলছে, দেরিতে মুকুল এলেও ফলনে কোন প্রভাব পড়বে না বরং গেল বছরের চেয়ে এবার উৎপাদন বেশি হবে।
মুকুলে মুকুলে ছেয়ে যাওয়ায় নওগাঁর বরেন্দ্র অঞ্চলের আম বাগানগুলো এখন মুখরিত মৌ মৌ গন্ধে। থোকা থোকা হলুদ রংয়ের মুকুলের ভারে আম গাছের ডাল পালা ঝুঁলে পড়েছে। এবার ঘন কুয়াশা আর তীব্র শীতে কিছুটা দেরিতে ফুটেছে আমের মুকুর। তবে পর্যাপ্ত মুকুল আসায় বরেন্দ্রর বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা ভাল ফলনের স্বপ্ন দেখছেন। আর গাছের মুকুল ও গুটি আম দেখে ইতোমধ্যে বেপরিরা বাগানের দরদাম হাঁকছেন। আর বাগান মালিকরা আমের গুটি ঝরে পড়া রোধে পানি ও ছত্রাক নাশক প্রয়োগে ফলন বাড়ানোর চেষ্টা করছেন।

সাপাহার খঞ্জনপুর এলাকার বাগান মালিক আলাউদ্দিন, তোফাজ্জল হোসেন সহ বেশ কয়েকজন জানালেন এবার আমের মুকুলে এখন পর্যন্ত কোন মড়ক দেখা যাচ্ছে না । সাপাহার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ এফ এম গোলাম ফারুক হোসেন বলেন, প্রথম দিকে ঘন কুয়াশার কারনে আমের মুকুল আসতে দেরী করে । তবে এবার আশাতীত মুকুল দেখে ভাল ফলন পাওয়ার আশা করা যাচ্ছে । তিনি বলেন এখানে একটি আম সংরক্ষনাগার করার জন্য ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে চিঠি চালাচালি চলছে ।

ফল গবেষণার দেয়া তথ্য অনুযায়ী, নওগাঁর বরেন্দ্র এলাকা সাপাহার, পোরশা, নিয়ামতপুরে ল্যাংড়া, ফজলি, গোপালভোগ, ক্ষিরসাপাত, বোম্বাই, আমরুপালি, হিমসাগর, লখনা ও মোহনভোগ জাতের সুস্বাদু আমের উৎপাদন বেশি হয়। আমের ভাল ফলন নিশ্চিন্তে বাগান মালিকদের নানা পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ। আর আম গবেষণা ও বাজার নিশ্চিতে সংরক্ষণাগার গড়ে তোলার আহবান জানালেন সাপাহার উপজেলা চেয়ারম্যান মো: শামসুল আলম চৌধুরী ।

জেলার ১২ হাজার ৫’শ হেক্টর জমির বাগানে ২ লক্ষ ১২ হাজার ৫’শ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরেছে কৃষি বিভাগ।

LEAVE A REPLY