ournews24.com: রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম এতিমখানায় প্রায় তিনশ’ শিশুর বসবাস। যাদের বয়স ৪ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে। কেউ মা হারা, কেউ বাবা। কারও মা-বাবা কেউই নেই। মা-বাবার স্নেহ-মমতা না পেলেও এতিমখানার শিক্ষক-শিক্ষিকা আর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের সন্তানের মতোই দেখাশোনা করেন। তারপরও মা-বাবার শূন্যতা পূরণ হবার নয়। বিশেষ করে মায়ের। আজ বিশ্ব মা দিবস। যাদের মা নেই তাদের আবার মা দিবস। আসলে জাতীয় বা আন্তর্জাতিক কোনো দিবসই ওদের জীবনে কোনো প্রকার প্রভাব ফেলে না। শুধু দুই ঈদ আর রোজা এলেই তারা আনন্দিত হয়। কারণ এসময় ভাল খাবার আর ভাল পোশাক পাওয়া যায়। এগুলো যে সরকারিভাবে দেওয়া হয় তাও না। সমাজের দয়ালু বিত্তবানরাই দিয়ে থাকেন।মা দিবস হল মায়ের সম্মনের প্রতি অনুগত্য প্রকাশের জন্য বছরের একটি বিশেষ দিন। যুগ যুগ ধরে বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশেই উদযাপিত হয়ে আসছে এ দিবস। এই দিনটি মূলত বিশ্বের অনেক দেশে বিভিন্ন দিনে আলাদাভাবে উদযাপন করা হয়ে থাকে। সারা বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশেই মার্চ, এপ্রিল বা মে মাসেই বিশ্ব মা দিবস পালন করা হয়। বাংলাদেশ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাসহ সারা বিশ্বের প্রায় ৬০টির মতো দেশে প্রতিবছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার একসঙ্গে মা দিবস পালিত হয়ে আসছে বহু যুগ ধরেই।

এতিম শিশুদের আনন্দের সঙ্গে দুঃখময় স্মৃতিও ভেসে উঠে মনে। এতিম শিশুরা খ- খ- হয়ে খেলা করছে। কেউ কেউ বই পড়ছে। কেউ আবার মন খারাপ করে বসে আছে। কাউকে কাঁদতেও দেখা গেছে। ১৮ বিঘা জমিতে গড়ে উঠা এ এতিমখানায় বিভিন্ন গাছপালা ও ফুলের বাগান রয়েছে। রয়েছে খোলা জায়গাও। উন্মুক্ত জায়গায় খেলাধুলা করতে পারলেও এসব শিশুদের চোখে-মুখে সবসময় কিসের যেন অভাববোধ দেখা যায়। সুখ আর দুঃখের মধ্যেই নিত্যদিন পার করে এসব শিশু।

কথা হয় ৫ বছরের ছোট্ট শিশু নিশির সঙ্গে। আস্তে আস্তে সে জানায় তার বাড়ি হাজীগঞ্জ। বাবা মারা গেছে ৩ বছর আগে। তার একটি ছোট্ট ভাইও রয়েছে। মা অসুস্থ। সেও অন্য মেয়েদের সঙ্গে থাকছে। চোখের কোণে জল টলটম করছে। মায়ের কথা বলতেই কাঁদতে শুরু করে নিশি। শিক্ষিকা সালেহা বেগম জানান, এ এতিমখানায় ১২১ জন মেয়ে শিশু আর ১৩১ জন ছেলে শিশু রয়েছে, যাদের বয়স ৪ থেকে ১৮ বছরের নিচে। প্রত্যেকেই পড়াশোনা করে। অনেক শিশু বাবা-মায়ের জন্য কাঁদে জানিয়ে তিনি বলেন, এসব শিশুরা কাঁদলে কিংবা মন খারাপ করলে মায়ের ভূমিকায় তারা এগিয়ে যান। ঘুম পাড়িয়ে দেন। গোসল করিয়ে খেতে দেন। কথা হয় শিশু রাকিবুল ইসলাম, রনযু, সলিমা আক্তার, শিদ শেখ, রাশেদা বেগম, লিটন, আহাদ, জুনাইয়েদ, গোলাম, মিরান, মুজিব, বিজয়, আলআমীন, রাশিদা আক্তার, সাথী, সুমা, আরিফা, মিতু, রাবেয়া, পান্না, সাবিনা, কাজল, ফেরদৌসী, মীমী, জান্নাতুল ও শ্রাবণীর সঙ্গে। শাহনাজ (১২) জানায়, তার বাড়ি ফরিদপুর, বাবা মারা গেছে ২ বছর হল। অপর বোন সুমীকে (৮) নিয়ে এ এতিমখানায় এক সঙ্গে থাকে। খাওয়ার সময় দুবোন এক সঙ্গে বসে। সুমী বাবা-মায়ের জন্য কেঁদে ওঠে। এসময় শাহনাজও কাঁদতে শুরু করে। একই ভাবে সবার মধ্যেই মা বাবার অভাব বোধ রয়েছে। রাবেয়া (১১) ও পান্না (৮) দুবোন। বাড়ি চাঁদপুর। তারাও মায়ের প্রসঙ্গ আসতেই ফুফিয়ে কেদে উঠে।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৯১২ সালে আনা জার্ভিস মাদারস ডে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন (আন্তর্জাতিক মা দিবস সমিতি) গঠন করেন। এমনকি তিনিই ‘মে মাসের দ্বিতীয় রোববার’ আর ‘মা দিবস’ এই দুটি শব্দের বহুল প্রচারণা চালাতে সক্ষম হন।