আসাদ তালুকদার: নাজিয়া সপ্তম শ্রেনীর ছাত্রী গতকাল বিকেলে হঠাৎ পেটে ভীষণ ব্যথা হওয়ার পর খেয়াল করে তার পায়জামাটা ভিজা। ভালো করে খেয়াল করে দেখে রক্ত। আশ্চর্য হয়ে ভাবতে থাকে কেন এই রক্তপাত। মায়ের কাছে খুলে বলার পর, সাথে সাথেই মা একটা প্যাড দিলেন। বললেন, একথা কাউকে বলা যাবেনা। যে কয়দিন এমন থাকে বাইরে কোথাও যাওয়া যাবে না, এমনকি স্কুলেও না। সন্ধ্যায় নিজের হাতে একটা ডিম ভাঁজি করে খাওয়ার জন্য থালা বাসন ধরতেই মায়ের বকুনি শুনতে হয় নাজিয়ার। এসব দিনগুলোতে থালা বাসনও ধরা যাবে না বলে জানান মা। হঠাত নাজিয়ার মনে হয় পাশের বাড়িতে আজরাতে তাদের সপরিবারে দাওয়াত। মা বারণ করলেও বাবা অফিস থেকে আসলেই বাবাকে রাজি করিয়ে পাশের বাড়িতে যাওয়ার কথা চিন্তা করে নাজিয়া। এমন সময়ই দরজায় বেলের শব্দে সে দৌড়ে দরজা খুলে দেখে বাবা ফিরেছেন অফিস থেকে। নাজিয়া বাবাকে জানায় মা আজ রাতে দাওয়াতে নিতে চাইছে না তাকে। বাবা জানায় অবশ্যই নাজিয়া যাবে। কিন্তু, একথা শুনার পর নাজিয়ার মা তার বাবাকে আড়ালে ডেকে নিয়ে কি যেন বলে। সেখান থেকে ফিরে বাবা নাজিয়াকে বুঝানোর চেষ্টা করে তার যাওয়ার দরকার নেই। একথা শুনে সদা হাস্যোজ্জল নাজিয়া একদম চুপসে যায়। মনে মনে ভাবতে থাকে মা কি বাবাকে ওই অসুখটার কথাই বললো, অসুখটা কি খুবই মারাত্মক?
আসলে মাসিক কোন অসুখ নয়। পৃথিবীর সকল নারীকেই এই প্রাকৃতিক পদ্ধতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়। আমাদের মা-খালারাও উঠতি বয়সে মাসিক বা ঋতুচক্রের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গিয়েছেন। একজন নারীকে ভবিষ্যতে সন্তানসম্ভবা হতে শারীরিকভাবে প্রস্তুত করে তোলার সূচনা হয় এই মাসিক প্রক্রিয়া থেকে। একজন কিশোরীর জন্য এটি প্রথম সংকেত যা বলে দেয় যে সে তার বাড়ন্ত কৈশোরে পা রাখছে।

প্রতি মাসে ডিম্বাশয় একটি ডিম্বাণু উৎপাদন করে। সবচেয়ে পরিপক্ক বা পূর্ণাঙ্গ ডিম্বাণুটি ডিম্বনালির মধ্য দিয়ে জরায়ুতে চলে যায়। জরায়ু হলো দেহের এমন একটি অংশ যেখানে শিশু সুরক্ষিত থাকে ও প্রতিনিয়ত পুষ্টি পায়। যখন ডিম্বাণু পরিপক্ক হয় তখন শরীর জরাযুতে রাসায়নিক সংকেত পাঠায়। ফলে জরায়ুর ভিতরের অংশ পুরু হয়ে ওঠে। ডিম্বাশয় থেকে পরিপক্ক ডিম্বাণু বেরিয়ে এসে ডিম্বনালীতে অবস্থান নেয়। এই পুরো প্রক্রিয়াকে বলে ডিম্বাণু উৎপাদন প্রক্রিয়া। ডিম্বানুটি শুক্রানু দ্বারা নিষিক্ত হলে গর্ভসঞ্চার হয়। গর্ভবতী অবস্থায় নিষিক্ত ডিম্বাণুটি ডিম্বনালীর মধ্য দিয়ে জরায়ুতে আসে। ৬ দিনের মধ্যে নিষিক্ত ডিম্বাণুটি জরায়ুতে সৃষ্ট নরম, পুরু আবরণের সাথে যুক্ত হয়ে যায়। আর যদি গর্ভবতী না হয়, তাহলে অনিষিক্ত ডিম্বাণুটি নষ্ট হয়ে যায়। জরায়ুর ভেতরে কোন শিশু জন্ম না নেওয়ায় নরম ও পুরু আবরণটিও ভেঙে যায়; শরীর থেকে রক্তের আকারে বের হয়ে আসে। এভাবেই মাসিকের শুরু হয়। এটি একটি স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়া। তাই মাসিক সম্পর্কে নারী পুরুষ সকলকে ভালোভাবে জানতে হবে এবং আমাদের নারীদের মাসিক কালিন স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত সহযোগীতায় এগিয়ে আসতে হবে।