‘মানবিক গল্পের বড়ই অভাব’

Smiley face

দুপুর রোদের চোখ রাঙানি। রাজধানীর ঢাকা ক্লাবের রেস্ট হাউজে ১১ এপ্রিল কথা হচ্ছিলো দুই বাংলার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত’র সঙ্গে। নায়িকার এবারের ঢাকা সফর ‘একটি সিনেমার গল্প’ ছবির প্রচারণার জন্য। এটি পরিচালনা করেছেন অভিনেতা ও পরিচালক আলমগীর। আজ ঢাকাসহ সারাদেশে মুক্তি পাচ্ছে ছবিটি। ঋতুপর্ণার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রকিব হোসেন
অনেকদিন পর আজ আপনার অভিনীত ছবি মুক্তি পাচ্ছে বাংলাদেশে। ‘একটি সিনেমার গল্প’ শিরোনামের এই ছবিতে কাজের কারণ কী ছিল?

এই ছবির পরিচালক চিত্রনায়ক আলমগীর। তিনি দারুণ পরিচালনাও করেন। তার সঙ্গে একটি যোগাযোগ তো আছেই। তিনি আমাকে অনেক আদর করেন, স্নেহ করেন। সিনেমায় কাজ ছাড়াও তার সঙ্গে আমার একটা পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। সেটা অনেক বড় একটি জায়গা। আমি আলমগীর ভাইয়ের জন্যই এ ছবিতে অভিনয় করেছি। তিনি যখন আমাকে এই ছবিতে কাজের প্রস্তাব দেন, তখন আমার বিশ্বাস ছিল যে, ছবিতে নিশ্চয়ই আমার কিছু করার রয়েছে। তা না হলে কেনো তিনি আমাকে অফার দিলেন। এরপর জানলাম একটি মেয়ের জীবনকে উপজীব্য করার পাশাপাশি সিনেমার মানুষদের ভেতরকার গল্প নিয়েই এ ছবির কাহিনী আবর্তিত হয়েছে। পর্দার রঙচঙা মানুষগুলোও যে সাধারণের মতোই রক্ত মাংসে গড়া, এটা এই ছবিতে ধীরে ধীরে তুলে আনা হয়েছে। এটাও আমার ভালো লেগেছে। আসলে আলমগীর ভাই অনেক ভালো একজন অভিনেতা, পরিচালক, প্রযোজক, সফল ব্যবসায়ী–সবমিলিয়েই তার প্রতি আমার আলাদা সম্মান ও শ্রদ্ধা রয়েছে। এ কারণে এই ছবিতে কাজ করা।

এই ছবির পোস্টারকে অনেকেই একটু পুরনো ধারার বলে মন্তব্য করেছেন। আরিফিন শুভও বলেছিলেন এটা তার ভালো লাগেনি। ছবির গল্পতে কী নতুনত্ব আছে? কেনো দর্শক এটা দেখবে?

প্রথমত আলমগীর ভাইয়ের জন্য ছবিটি দেখতে প্রেক্ষাগৃহে যাবেন দর্শক। কারণ অনেকদিন পর তিনি একটি ছবি বানিয়েছেন। তার পরিচালনার মধ্যে একটা ম্যাজিক আছে। এই পরিচালক অনেক ভেবেচিন্তেই একটি ছবি বানান। তার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার কিছু বিষয় এই ছবিতে রয়েছে। আমাদের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সুখ, দুঃখ, আবেগ, ভালোবাসা–এগুলো সূক্ষভাবে দর্শকদের জানাবার একটা প্রয়াস তিনি নিয়েছেন। এটি একটি মানবিক গল্পের ছবি।
আমাদের এখানে এখন এ ধরনের গল্পের বড়ই অভাব। আমরা খুব বেশি আরবান, ফাস্ট কাটিং গল্প, ফ্যান্টাসি নিয়ে কাজ করছি। জীবনের গল্প বলতে গেলেও সেখানে কৃত্তিমতা চলে আসছে। এখনকার দিনে চাওয়া-পাওয়ার অংকটা অন্যরকম হয়ে গেছে। তো সেখানে দাঁড়িয়ে একটুখানি ভেবে দেখলে দেখা যাবে কিছু কিছু ফান্ডামেন্টাল ইমোশন আমাদের জীবনে আছে, যা মরে যায় না। সেগুলো কিন্তু মানুষ দেখতে চায়। যেমন কিছুদিন আগে কলকাতায় আমার একটি ছবি মুক্তি পেয়েছে ‘ভালোবাসার বাড়ি’। এতে সামান্য একটা পারিবারিক গল্প দেখানো হয়েছে। দিদির সঙ্গে দিদির সম্পর্ক, মানুষের জন্য মানুষের যে টান, বাড়িতে একজন অতিথি এলে তাকে যথাযথ হসপিটালিটি দেখানো, বাবা-মায়ের সম্পর্ক, বাচ্চার সঙ্গে বাবা মায়ের সম্পর্ক, পারিবারিক আগের সেই মজবুত বন্ধন যেনো দিনে দিনে হারিয়ে যাচ্ছে। একটি সিনেমার গল্পে শিল্পীর আড়ালে থাকা রক্ত মাংসের মানুষের যে চাওয়া-পাওয়া, আবেগ ও ভালোবাসা সেটা আমরা অনেক সময় ওভারলুক করে যাচ্ছি। আর সেটাই হয়তো আলমগীর ভাই এই ছবির মাধ্যমে সুন্দরভাবে ফিরিয়ে আনতে চেয়েছেন। আসলে কিছু কিছু জিনিস সনাতন, সেটা কখনোই বদলায় না। দর্শকরা তাদের পরিবারে কিছু কিছু জিনিস মিস করে। সেটা এই ছবিতে খুঁজে পাবেন। আসলে বাবা বা মা যখন মৃত্যুশয্যায় থাকে, তখন কিন্তু সে তার সন্তানের মুখটাই আগে দেখতে চায়। এগুলোই আমাদের ভ্যালুস। কখনো কখনো মনে হয় এই ভ্যালুসগুলো আমার হারিয়ে ফেলছি। এগুলো যদি ছবির মাধ্যমে ফিরিয়ে আনতে পারি, তাহলে মনে হয় বাংলা ছবির দর্শকদেরও আমরা প্রেক্ষাগৃহে ফিরিয়ে আনতে পারবো–যারা বাংলা ছবি দেখতে হলে যান না, ছবিতে খুব কৃত্তিমতা চলে এসেছে বলে। পাশাপাশি এই ছবিতে রুনা লায়লা আপা গানের সুর করেছেন। এটা প্রথম করেছেন তিনি। ছবির জন্য এটি বড় পাওয়া। এতে সুন্দর সুন্দর গান রয়েছে। গাজী মাজহারুল আনোয়ার গান লিখেছেন। এসআই টুটুল গান করেছেন। চম্পার মতো গুণী অভিনেত্রী রয়েছেন। আরিফিন শুভ তো আছেনই। সবমিলিয়ে এটি চমৎকার একটি ছবি। এর গল্পের গাঁথুনি বেশ মজবুত।

এই ছবিতে আপনার বিপরীতে কাজ করেছেন আরিফিন শুভ। তার চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার বেশিদিনের নয়। শুভকে কী রকম দেখলেন?

আমার মনে হয়, আরিফিন শুভ একজন সপ্রতিভ অভিনেতা। ওর পারসোনালিটি, ওর হাইট, গলার আওয়াজ, হি ইজ ভেরি প্রমিসিং আর্টিস্ট। ওর সঙ্গে কাজ করে আমার ভালো লেগেছে। শুভ অভিনীত ‘ঢাকা অ্যাটাক’ ছবিটি আমি দেখেছি। সে ভালো অভিনেতা। একটি সিনেমার গল্পেও সুন্দর অভিনয় করেছে। শুটিংয়ের সময় শুভ শুধু বলতো তোমাদের তুলনায় আমি তো শিশু। আমাকে কাজ সেখাও। ছেলেটির মধ্যে সরলতা রয়েছে। শেখার আগ্রহ আছে ওর মধ্যে। আমার জীবনের অনেক অভিজ্ঞতা জানতে চাইতো শেখার জন্য। আলমগীর ভাইকে সে অনেক সম্মান করতো দেখতাম। ও

LEAVE A REPLY