মাদারীপুরে হায়দার কাজী জুট মিলে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড

২০ ঘন্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে ॥ কাজ চলবে সন্ধ্যা পর্যন্ত

61
Smiley face

মোনাসিফ ফরাজী সজীব,মাদারীপুর : মাদারীপুর শহরের সৈদারবালী টিবি ক্লিনিক এলাকায় হায়দার কাজী জুট মিলে আগুনের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিটের চেষ্টায় ২০ ঘন্টা পর আজ মঙ্গলবার দুপুর ২টা টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করতে হবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত। অগ্নিকান্ডে কত কোটি টাকার সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা নিরূপন করা এখনো সম্ভব হয়নি। তবে কর্তৃপক্ষের ধারণা ৫০ কোটি টাকার ক্ষতির সম্ভাবনা করা হচ্ছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সোমবার বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে হায়দার কাজী জুট মিলে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহুর্তের মধ্যেই আগুন চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে মাদারীপুর ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। আগুনের তীব্রতা আরো ভয়বাহ হলে রাতে আরো বিভিন্ন জেলার ১০টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করে। মঙ্গলবার দুপুর ২টা টার দিকে ২০ ঘন্টার চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করতে হবে সন্ধ্যা পর্যন্ত। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ৩টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্তÍ আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রনে আনা সম্ভব হয়নি। এখনো মাদারীপুর সদর, রাজৈর, শরিয়তপুর, বরিশালের গৌরনদী, ফরিদপুরের ভাঙ্গার ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রনে আনার চেস্টা চালিয়ে যাচ্ছে। খবর পেয়ে মাদারীপুর সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আইনশৃংঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাজ করে যাচ্ছে। জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন, পৌর মেয়র খালিদ হোসেন ইয়াদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা অপরিকল্পিত গোড়াউনকে দায়ী করছেন।
মাদারীপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার নিত্য গোপাল সরকার ও রাজৈর উপজেলার ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার জানান, আমরা ১০টি ইউনিট ২০ঘন্টা কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনতে পেরেছি। তবে এখনো অনেক স্থানে আগুন জ্বলছে। মিলের কারখানার আগুন অনেক আগেই নিয়ন্ত্রনে আনলেও পাটের গুদামে আগুন নিয়ন্ত্রনে সময় লেগেছে অনেক। এখনো ক্ষয়ক্ষতি পরিমান জানা না গেলেও ধারণা করা হচ্ছে ৫০ কোটি টাকার বেশী ক্ষতি হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স-এর ফরিদপুর অঞ্চলের সহকারী পরিচালক এবিএম মমতাজ উদ্দিন জানান, মিলের গোড়াউনগুলো অপকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়েছে। যে কারণে আগুন সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। মিলের অভ্যন্তরীণ রাস্তা সরু থাকায় গোড়াউন পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের গাড়ী ঢুকানো যায়নি। পরিকল্পিতভাবে গোড়াউন নির্মাণ করা হলে এমন দুঘর্টনায় ক্ষতির পরিমাণ কম হতো।’
উল্লেখ্য, সোমবার বিকাল ৫টার দিকে কাজী হায়দার জুট মিলের মেশিন রুমের দক্ষিণ পাশ থেকে অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত হয়ে মুহুর্তের মধ্যে পার্শ্ববর্তী বিল্ডিংসহ পাটের গুদামে আগুন ছড়িয়ে পরে। এসময় শ্রমিকরা আর্তচিৎকার করতে করতে দৌড়ে মিল থেকে বেরিয়ে আসে। শ্রমিকদের ছুটাছুটির কারণে অফিস রুমের কর্মকর্তা-কর্মচারিরা ধুয়ার কুন্ডুলি দেখে মাদারীপুর ফায়ার সার্ভিসকে ফোন করে। মাদারীপুর ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। আগুনের ভয়াবহতার কারণে রাজৈরের টেকেরহাট ও বরিশালের গৌরনদী, ফরিদপুরের ভাঙ্গা ও শরীয়তপুর ফায়ার সার্ভিসকে তলব করা হয়।
এব্যাপারে মিলের পরিচালক মুক্তার কাজী বলেন, “আমরা মিলের অফিসের মধ্যে বসেছিলাম। হঠাৎ শ্রমিকরা ফেক্টরি থেকে দৌড়ে বের হয়ে আসছে দেখে আমরা বাইরে যাই। শ্রমিকদের আগুন আগুন চিৎকার শুনি এবং ধুয়ার কুন্ডলি দেখতে পাই। সংগে সংগে মাদারীপুর ফায়ার সার্ভিসকে ফোন করি। ফায়ার সার্ভিস আসতে আসতে দুইটি পাটের গুদামসহ ফেক্টরির দুইটি ইউনিটে আগুন ভয়াবহ রূপ নেয়। কি পরিমান ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা এখনই নিরূপণ করা সম্ভব নয়।”