মাদক ব্যবসায়ীদের সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে বিচারের তাগিদ

Smiley face

গ্রাম থেকে শহর; সর্বত্রই ছড়িয়ে পড়ছে মাদকদ্রব্য। এই মাদকদ্রব্য সেবনের মাধ্যমে এ দেশের যুবশ্রেণির একটা অংশ তাদের জীবনী শক্তি হারিয়ে ফেলছে। কর্মক্ষমরা হয়ে পড়ছে অকর্মা। তারা সমাজ তথা রাষ্ট্রকে নিয়ে যাচ্ছে পেছনে। এসব কাজের মূলে রয়েছে মাদক ব্যবসায়ী। মাঝে মধ্যে এদের কাউকে আইনের আওতায় আনা হলেও আইনের ফাক-ফোঁকার দিয়ে বেরিয়ে এসে পুনরায় একই কাজে জড়িয়ে পড়ে। কখনো বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার সুযোগ নিয়ে পার পেয়ে যায় তারা। এ অবস্থায় গত মাসে সচিব সভায় সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতির মাধ্যমে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়। যা বাস্তবায়ন করতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সম্প্রতি এক পত্রে সংশ্লিষ্ট সচিবদের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়।
ওই পত্রে সচিবদের বলা হয়– সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতির মাধ্যমে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি পর্যালোচনা করতে হবে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য পুলিশ স্টাফ কলেজ ও বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণকেন্দ্রের সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের উদ্যোগ নিতে হবে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সিপাহীদের আগ্নেয়াস্ত্র প্রদান করার আইনগত বিষয়টি পর্যালোচনা করতে হবে। জেলা প্রশাসন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও তথ্য অধিদপ্তর সম্মিলিতভাবে মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করবে।
এদিকে দেশজুড়ে শহর-গ্রাম নির্বিশেষে মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ মাদক ইয়াবার বিরুদ্ধে অবশেষে কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার। এ উদ্দেশ্যে ২৮ বছর আগের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হচ্ছে। বিদ্যমান ১৯৯০ সালের আইনে মাদকদ্রব্যের তালিকায় ইয়াবার নাম ছিল না। ওই আইন যখন করা হয়, তখনও ইয়াবার প্রচলন হয়নি। তবে এরই মধ্যে ইয়াবার ভয়াবহ থাবায় দেশের যুব সম্প্রদায়ের একটা বড় অংশ ধ্বংসের মুখোমুখি। পুরনো মাদক আইনে এর নাম না থাকায় আইনের ফাঁকে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা সহজেই ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে। আইনের দুর্বলতার কারণে ইয়াবাপাচার, ব্যবসা ও ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ব্যাপক পরিবর্তন এনে একটি খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। এই খসড়া আইনটি বর্তমানে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানা গেছে।
এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনকে সংশোধন করে যুগোপযোগী করা হচ্ছে। এ আইনের লক্ষ্যÑ মাদক নিয়ন্ত্রণ করা। তিনি বলেন, মাদকের কারণে অর্থনৈতিক অবস্থা বিপর্যস্ত হয়। ধর্মীয় অনুশাসন, আচার-আচরণ, পারিবারিক বন্ধন মাদক থেকে ফিরিয়ে আনতে পারে। দেশের ৬৫ শতাংশ জনগণ কর্মক্ষম। তাদের কাজে লাগাতে না পারলে সরকারের রূপকল্প অর্জন সম্ভব নয়।
জানা গেছে, প্রস্তাবিত আইনের খসড়ায় ইয়াবাকে ‘ক’ শ্রেণির তফসিলভুক্ত মাদক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও চিকিৎসকদের মতে, ইয়াবা ট্যাবলেটে এমফিটামিন ও ক্যাফেইনের মতো যে মিশ্রণ রয়েছে- তা ‘ক’ শ্রেণির মাদক। অথচ বিদ্যমান আইনে ইয়াবা ট্যাবলেট মাদক হিসেবে তফসিলভুক্ত ছিল না। নতুন আইনে ২০০ গ্রাম ইয়াবা ট্যাবলেট বা ইয়াবার উপাদান সরবরাহ, পরিবহণ বা সংরক্ষণ করলে তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ-ে দ-িত করার বিধি যুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও নতুন আইনে সিসাকেও (বিভিন্ন ধরনের ভেষজের নির্যাস, নিকোটিন এবং এসেন্স ক্যারামেল মিশ্রিত ফ্রুট সøাইস দিয়ে তৈরি পদার্থ) মাদকদ্রব্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। ১৯৯০ সালের বিদ্যমান আইনে সিসাও মাদক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত ছিল না। অথচ এই সিসায় আসক্ত হয়ে যুবক-যুবতীরা নৈতিক অবক্ষয়ের দিকে যাচ্ছে। অভিভাবক মহলেও দুশ্চিন্তা বেড়েছে। কেউ সিসা বহন কিংবা মজুদ করলে তাকে শাস্তির আওতায় আনা হবে।
এদিকে, মাদক মামলায় বেশিরভাগ আসামিই খালাস পেয়ে যায়। এর কারণ হিসেবে চার্জশিটের ত্রুটি ও সাক্ষ্য-প্রমাণের অভাবকে দায়ী করলেন মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) কর্মকর্তারা। অর্থাৎ মামলা হয় বিচার হয় না। পুলিশ ও মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তারা জানান, একবার জেল থেকে বেরিয়ে যেতে পারলে আবারো মাদক ব্যবসায় ফিরে যায় আসামিরা। আবার আসামিদের কাছে মাদক পাওয়ার প্রমাণ থাকার পরও অনেকে খালাস পেয়েছে।

LEAVE A REPLY