নানা ইস্যুতে পরস্পরের মতের মিল না থাকার পরও যুক্তরাষ্ট্রের হাউস স্পিকার পল রায়ান বলেছেন, তিনি রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পকেই ভোট দেবেন। ট্রাম্পের সঙ্গে মতানৈক্যের চেয়ে মতৈক্যের সংখ্যাই বেশি বলেও দাবি করেছেন তিনি। এদিকে ট্রাম্পকে ‘ভয়ঙ্কর পাগলাটে’ বলে অভিহিত করেছেন ডেমোক্রেটদলীয় প্রার্থীপ্রত্যাশী হিলারি ক্লিনটন। গতকাল শুক্রবার এ খবর দেয় বিবিসি।

রিপাবলিকানরা যে ট্রাম্পকে ঘিরে আবারও ঐক্যবদ্ধ হচ্ছেন, সে ইঙ্গিত রায়ানের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আরও জোরালো হয়ে উঠল। কেননা এর আগে রিপাবলিকান নেতা রায়ান ট্রাম্পকে সমর্থন দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।

টুইটারে দেওয়া এক পোস্টে পল রায়ান লিখেছেনÑ আমি এ বছর ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভোট দিতে যাচ্ছি। রিপাবলিকান পার্টির এজেন্ডাগুলোকে তিনি আইনে পরিণত করতে পারবেন বলেই আমার বিশ্বাস।

এরপর নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়ে উইসকনসিনের স্থানীয় গেজেট পত্রিকায় লেখা এক কলামে রায়ান লিখেছেনÑ তার (ট্রাম্প) আর আমার মধ্যে যে মতভিন্নতা রয়েছে, তা সবারই জানা। এ নিয়ে আমি ছলাকলা চাই না। তবে আমি যখন কোনো কিছুর গুরুত্ব অনুভব করি, তখন নিজেই নিজের সঙ্গে কথা বলতে থাকি। আর তা করে আমার মনে হয়েছে ট্রাম্প আমাদের এজেন্ডা বাস্তবায়িত করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে আমাদের অনেক কিছুতেই মতৈক্য রয়েছে। ডেমোক্রেট দলের হয়ে প্রেসিডেন্ট প্রার্থীপ্রত্যাশী হিলারি ক্লিনটনের সমালোচনা করে রায়ান বলেন, তাকে নির্বাচিত করার মানে হলোÑ আরও চার বছরের জন্য অযোগ্যদের হোয়াইট হাউসে নিয়ে আসা এবং এমন একটি সরকারকে দায়িত্ব দেওয়া, যারা জনগণের সেবার চেয়ে নিজেদের সুবিধার দিকেই বেশি খেয়াল রাখে।

এদিকে ক্যালিফোর্নিয়ায় এক নির্বাচনী সমাবেশে যোগ দিয়ে ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা করেন হিলারি। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প কেবল অপ্রস্তুতই তা নয়, তিনি অনুপযুক্তও।

ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করা হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের ‘ঐতিহাসিক ভুল’ হবে বলে সতর্ক করেছেন সাবেক এ ফার্স্টলেডি। সাবেক এ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ট্রাম্প ‘ভয়ঙ্কর এক ভাঁড়’। এর জবাবও দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেনÑ অফিসেই যিনি সফল হতে পারেননি, তার (হিলারি) আর কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই।

আগামী ৮ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ৪৫তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থিতার দৌড়ে নিজ নিজ দলে এগিয়ে রয়েছেন ট্রাম্প ও হিলারি দুজনেই।