ভ্রমণ পিপাসুদের ঢাকছে রানী ভবানীর রাজবাড়ি

নাটোর প্রতিনিধি – নাটোর রাজবাড়ি’ নাটোরসহ সারা বাংলাদেশের গৌরব।এই বাড়িতে বসেই এক সময় অর্ধেক বাংলা শাসন করেছেন নাটোর রাজবংশের উজ্জ্বলতম চরিত্র রানী ভবানী। বর্তমানে বাড়িটি পর্যটন¯’ল হয়ে উঠেছে। অবসর সময় কাটাতে এখানে ¯’ানীয়রা ছাড়াও দূরদূরান্তের অনেক ভ্রমণপিপাসুরা আসেন। যান্ত্রিক নগরীর কোলাহল থেকে স্বস্তির নিঃশ^াস ফেলতেই এখানে আসেন তারা।

নাটোর শহর থেকে ২কিলোমিটার উত্তরে অব¯ি’ত রানী ভবানীর রাজবাড়ি। পাঁচ টাকা দর্শনীর বিনিময়ে রাজবাড়ির অপার সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। পর্যটকরা মুগ্ধদৃিষ্টতে দেখেন ছায়াঘেরা বিভিন্ন গাছপালা শোভিত ও কারুকার্য খচিত ভবন,পুকুর,দৃষ্টিনন্দন মন্দিরসহ বিভিনান ¯’াপনা।রাজবাড়ি ঘুরতে

আসা ফারজানা কেয়া জানান,যান্ত্রিক জীবনে ছায়াঘেরা বৃক্ষশোভিত রাজবাড়িতে এলে প্রাণ জুড়িয়ে যায়। দর্শনার্থী মেহেদী হাসান জানান,ইতিহাস জানতে এসেছি।

নাটোরের জেলা প্রসাশক শাহিনা খাতুন বলেন, নাটোরকে পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার জন্র রাজবাড়ি সংস্কাওে নেওয়া হয়েছে নানা পদক্ষেপ। ইতিমধ্যে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। ইতিহাস থেকে জানা যায়,১৭০৬-১৭১০

সালের মধ্যে পঞ্চাশ একর জমির উপর গড়ে উঠে ‘অর্ধ বঙ্গেশ^রী’ খ্যাত নাটোরের রানঅ ভবানীর রাজবাড়ি। রাজবাড়ির চারদিকে পরিখা দিয়ে ঘেরা,মূল রাজপ্রাসাদ দুটি ছাড়াও রয়েছে ছোট-বড় অনেক ভবন,রয়েছে পাঁচটি পুকুর,মন্দির,মৃত্যুকূপসহ বিভিন্ন ¯’াপনা।

কামদেবের ছেলে রামজীবন এই রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা।বাংলার নবাব মুর্শিদ কুলি খাঁর সময়ই মূলত রানী ভবানীর ‘অর্ধ বঙ্গেশ^রী’ খ্যাতি লাভ এবং রাজবাড়ির প্রসার হয়। অর্ধ বঙ্গেশ^রী রানী ভবানী রাজ্যেও শাসনভার নিজ হাতে তুলে নেওয়ার পর থেকেই সফলভাবে রাজ্য পরিচালনা করেন। দেশবাসীর কাছে এমনকি ইংরেজদেও কাছেও রানী ভবানী ছিলেন অত্যন্ত শ্রদ্ধার পাত্রী।

কথিত আছে, পলাশীর যুদ্ধে রানী ভবানী সিরাজউদ্দৌলার পক্ষে সৈন্য পাঠিয়েছিলেন। এও শোনা যায় যে,নবাব সিরাজউদ্দৌলা রানী ভবানীর মেয়ে তারাসুন্দরীকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। রানী ভবানীর গর্ভে দুই পুত্র ও এক কন্যা সন্তান জন্মে।কিš‘ দুই পুত্রের অকাল মৃত্যু হলে ১৭৫১ সালে রানী ভবানী রামকৃষ্ণকে দত্তকপুত্র হিসেবে নেন।রামকৃষ্ণ ও রানী ভবাণীর মৃত্যুর পর রাজবাড়ি দু’অংশে ভাগ হয়ে যায়।

১৯৮৫ সালে এটার একাংশকে যুবপার্ক ঘোষণা করা হয় । ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা রাজবাড়িতে নেই রাজা।নেই অর্ধ বঙ্গেশ^রী,যাকে নাটোরের মানুষজন এখনও বঙ্গমাতা বলে শ্রদ্ধার সাথে স্বরণ করে।