ভোলায় ইলিশের দেখা না পেয়ে জেলারা হতাশ!

Smiley face

দুই মাস নদীতে সকল প্রকার মাছ ধরা বন্ধ থাকার পর নদীতে ইলিশ শিকারে নেমে মাছ না পেয়ে খালি হতে হতাশা নিয়ে ফিরে আসছে ভোলার জেলেরা। প্রতিদিন মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীতে জেলেদের জালে কাঙিক্ষত মাছ না পরায় চরম দুর্দিনে দিন কাটাচ্ছেন তারা। লোকসান গুণতে হচ্ছে ট্রলার মালিক ও ব্যবসায়ীদের।
জানা গেছে, জেলার সাত উপজেলায় সরকারী ও বে-সরকারী হিসাবে তিনলাখেরও বেশি মানুষ মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন। গত দুই মাস নিষেধাজ্ঞার সময়ে নৌকা তৈরী, মেরামত ও জাল বোনাসহ বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত সময় পার করে মেঘনা-তেঁতুলিয়া পাড়ের জেলেরা।

গত ১ মে রাত থেকে নদীতে ইলিশ শিকারে নেমে মাছ না পেয়ে খালি হতে হতাশা নিয়ে ফিরে আসছে তারা। তবুও, প্রতিদিনই আশায় বুক বেধে নদী-সাগরে ছুটছেন ইলিশের আশায়। কিন্তু অধিকাংশ জেলেকেই ফিরতে হচ্ছে খালি হাতে। এতে পরিবার পরিজন নিয়ে চরম দুর্দিনে দিন কাটাচ্ছেন জেলে ও তার পরিবার।

চরফ্যাশন বেতুয়া ঘাটের রফিকুল ইসলাম মাঝি বলেন, নিষেধাজ্ঞা শেষে নদীতে নেমে তেমন কোন মাছ পায়নি। যা পাওয়া যায় তাতে ট্রলারের তৈল খরচ ও হচ্ছে না। কোন কোন দিন ৩ থেকে ৪ টা করে ইলিশ মাছ পাওয় গেলেও খালি হাতে ফিরে আসতে প্রায় সময়।

লালমোহন মঙ্গলসিকদার মাছ ঘাটের জেলে শাহিন মাঝি জানান, গত দুই মাস ইলিশ ধরতে না পারায় যে ধার-দেনা করে সংসার চালিয়েছি। এখন নদীতে নেমে জালে তেমন কোন মাছ পরছে না। যা পাওয়া যায় তা ট্রালর ও তৈল খরচে চলে যাচ্ছে। তরে এসে ভাগিও জেলেরা খালি হতে ঘরে ফিরে যাচ্ছে। হয়ত সামনের জোতে কিছু মাছ পরতে পারে।

লালমোহন বেতুয়ার স্লুইজ ঘাটের মাছ ব্যবসায়ী আলম সওদারগর বলেন, গত দুই মাস জেলেরা দার দেনা করে সংসার চালিয়েছে। নিষেধাজ্ঞা শেষে নদীতে নেমে জেলেরা এ সময়য়ে যে পরিমানের মাছ পাওয়ার কথা তা মিলছে না। তবে কয়েক দিনের মধ্যে মাছ পরবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, সাধারণত আগস্ট এর প্রথম থেকে শুরু করে অক্টবর পর্যন্ত ইলিশের ভরা মৌসম থাকে। এসময়ে নদীর পানি লবনাক্ত থাকার কারণে জেলেদের জালে মাছ কম ধরা পরে। যখন বেশি বৃষ্টি শুরু হবে এবং পানির স্রোতে বাড়বে তখন জেলেদের জালে মাছ পেতে শুরু করবে।

তিনি আরও জানান, গত দুই মাস ইলিশ শিকার বন্ধ থাকায় এবছর দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো ভোলায়ও ১০ হাজার মেট্রিক টনেরও বেশী ইলিশ উৎপাদিত হবে বলে আশা করছেন।