ভিটামিন ডি-এর অভাবে যেসব রোগ হতে পারে

ভিটামিন ডি-এর অভাবে ভুগেন অনেকেই।ফলে অসংখ্য রোগ বাসা বাঁধে শরীলে। আপনার শরীরেও কি এই অত্যাবশ্যক ভিটামিনটির ঘাটতি রয়েছে? জেনে নিন তা বোঝার কয়েকটি উপায়:
*চেষ্টা করেও সন্তান আসছে না? বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা বলছেন, বন্ধ্যাত্বের সমস্যা নিয়ে তাঁর কাছে যাঁরা আসেন, তাঁদের মধ্যে অনেকের শরীরেই ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি আছে৷
‘‘যাঁরা শহরে থাকেন ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে দিনের অনেকটা সময় কাটান ও সূর্যালোকের সঙ্গে সেই অর্থে কোনও সম্পর্ক নেই, তাঁদের মধ্যেই এই সমস্যা বেশি দেখা যায়৷ এ কথা এখন প্রমাণিত হয়েছে যে, শরীরে ভিটামিন ডি-এর অভাব থাকলে সন্তানধারণে সমস্যা হয়৷’’

*আপনার হাড়ের স্বাস্থ্য কি খারাপ? ভিটামিন ডি-এর অভাবে হাড় ক্রমশ ভঙ্গুর হয়ে পড়ে৷ বিশেষ করে চল্লিশের কাছাকাছি এলেই তার ফল ভোগ করতে আরম্ভ করেন নারীরা, মেনোপজ়ের পর অবস্থা আরও খারাপ হয়৷ যাঁদের হাড়ের স্বাস্থ্য খারাপ, তাঁরা হাঁটুর ব্যথায় কাবু হয়ে পড়েন অল্প বয়সেই৷ সামান্য চোট-আঘাতে হাড় ভেঙেও যেতে পারে৷

*প্রায়ই শরীরে ব্যথা হয়? ক্লান্ত লাগে? হাড় দুর্বল হলেই জোড়ের জায়গাগুলোতে ব্যথা হবে৷ পেশিগুলিও ক্লান্ত হবে তাড়াতাড়ি৷ তাই সামান্য পরিশ্রমেই শরীর ক্লান্তিতে ভেঙে পড়ার পরিস্থিতি তৈরি হলে ব্যাপারটাকে মোটেই হালকাভাবে নেবেন না৷ ভিটামিন ডি ডেফিশিয়েন্সি থেকে কিন্তু পরবর্তীকালে অস্টিওপোরোসিস, ওবেসিটি, হৃদরোগ এমনকী টাইপ টু ডায়াবেটিস হওয়ার আশঙ্কাও থাকে৷

#প্রতিকার: যাঁরা গর্ভবতী, তাঁরা ভিটামিন ডি-র ঘাটতিতে ভুগলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ব্যবস্থা নিতে হবে৷ কারণ গর্ভাবস্থায় এই অত্যাবশ্যক ভিটামিনের অভাব হলে ভ্রূণের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে, তার বৃদ্ধি ব্যাহত হয়৷ গর্ভস্থ শিশুর হাড় শক্তপোক্ত না হলে সে সারাজীবন ভুগবে৷

অনেকে বলেন, দিনের বেলা ১০ টা থেকে বেলা তিনটের মধ্যে অন্তত পাঁচ মিনিটের জন্য ত্বকে রোদ লাগাতে পারলে ভিটামিন ডি সংক্রান্ত সমস্যা হয় না৷ এই সময়ে কিন্তু সানস্ক্রিন লাগালে চলবে না৷ সপ্তাহে মোট আধ ঘণ্টার জন্য হাতে-পায়ে, মুখে, পিঠে রোদ লাগাতে পারলেই অনেক সমস্যা থেকে দূরে থাকতে পারবেন৷

তবে ডাক্তাররা বলছেন, ‘‘নানা সমীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে যে আমাদের শরীরে সূর্যালোক থেকে যতটা ভিটামিন ডি-এর আত্তীকরণ হওয়ার কথা, ততটা সম্ভবত হয় না৷ তাই কেবল সূর্যালোককেই সমাধান বলে ভেবে নিলে ভুল করবেন৷ জোর দিন সুষম খাওয়াদাওয়ার উপর৷ ডিম, দুধ বা দুধজাত খাবার, সবুজ শাকসবজি, ফল রাখুন রোজের খাদ্যতালিকায়৷

মনে রাখবেন, টানা ১০-১২ ঘন্টা বসে থাকার জন্য আমাদের শরীর তৈরি হয়নি৷ তাই যতটা সম্ভব হাঁটাচলা করুন, সচল থাকুন৷ নিয়মিত ব্যায়াম করলে ও ধূমপান-মদ্যপান থেকে দূরে থাকলে অনেক সমস্যা থেকে বাঁচা যায়৷’’