ভালোবাসার টানে বাংলাদেশে থাই-কন্যা

0
270
print
নাটোর ও নওগাঁ প্রতিনিধি
ভালোবাসা যেকোন জাত-পাত, ভৌগোলিক সীমারেখা মানে না তা আবারও প্রমাণিত হলো। এবার ভালোবাসার টানে থাইল্যান্ড থেকে বাংলাদেশে ছুটে এসেছেন সুবাতা ওম ওরফে সুপুত্তো নামের এক থাই-কন্যা। এরইমধ্যে ৩৬ বছরের ওই নারী বিয়ে করেছেন তার ভালোবাসার মানুষটিকে।

বুধবার নাটোরের আদালতে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সাহাগোলা গ্রামের ২২ বছরের তরুণ অনিক খানকে বিয়ে করেন সুপুত্তো। অনিক মোবাইল ফোন মেরামতের কাজ করেন।

সুপুত্তো জানান, পড়াশোনা শেষ করে তিনি প্রথমে ব্যাংকে চাকরি করতেন। সেটা ছেড়ে দিয়ে এখন ফাস্ট ফুডের ব্যবসা করেন। দোকানে বসে ফেসবুকের মাধ্যমে বাংলাদেশের ২২ বছরের যুবক অনিক খানকে ‘ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট’ পাঠান। প্রথমে ফেসবুক চ্যাটে দুজনের কথা হতো। পরে ফোনে কথাবার্তা চলতে থাকে। এভাবেই তারা পরস্পরের প্রেমে পড়েন।

তিনি জানান, এর আগেও একবার বাংলাদেশে এসেছিলেন। গত ফেব্রুয়ারি মাসে বাবা-মায়ের অনুমতি নিয়ে প্রথমবার পাঁচ দিনের ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে আসেন ওই তরুণী। সে সময় অনিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানায়। এসময় তাকে (অনিককে) দেখে আরও ভালো লেগে যায়। অনিকের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে নিজেই বিয়ের প্রস্তাব দেন। কিন্তু অনিকের পরিবারের লোকজন তার প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি। ফলে তাকে না পাওয়ার বেদনা নিয়ে দেশে ফিরে যান তিনি।

সুবাতা ওম বলেন, ‘ব্যর্থ হলেও অনিককে নিয়ে ঘর বাধার স্বপ্ন ছেড়ে দেইনি। চলতি মাসের প্রথম দিকে আবার ছুটে আসি এদেশে। এবার অনিকের পরিবারের সম্মতি আদায়েও সফল হয়েছি। তবে বিষয়টা মোটেও সহজ ছিল না। অনিকের পরিবারের সদস্যদের হাতে-পায়ে ধরেছি। কান্নাকাটিও করেছি, উপবাস করেছি। অনিকের পরিবারের সম্মতি পেয়ে দেশে ফেরার একদিন আগে ধর্মীয় রীতি মেনে বিয়েটা সম্পন্ন করতে পেরে আমি আনন্দিত। নাম নিয়েছি, সুফিয়া খাতুন। আমার বিশ্বাস, অনিক আমার জীবনে একমাত্র সঙ্গী হয়ে থাকবে।’

নাটোরের বিবাহ রেজিস্ট্রার আমিনুল ইসলাম টিপু বিয়ের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ইসলাম ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী বিবাহ সম্পন্ন হয়। বিবাহের সময় মেয়েটির নাম সুফিয়া খাতুন লেখা হয়।

অনিক খান বলেন, ‘দোকানে বসে অলস সময় কাটাতে গিয়ে ফেসবুকে থাই-কন্যার সঙ্গে পরিচয়। আমরা একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ না রেখে থাকতে পারি না। ওম আমাকে একটা ভালো মোবাইল ফোন সেট উপহার দিয়েছে। দুজনের ফোনেই সব সময় ইন্টারনেট সংযোগ থাকে। আমরা ভিডিও কল করে দীর্ঘ সময় কথা বলি। এভাবেই পরস্পরকে ভালোবেসে ফেলেছি। ওম এখন আমার জীবনের একটি অংশ হয়ে গেছে। আমি ওকে নিয়ে সারা জীবন কাটাতে চাই।’

এদিকে, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ায় বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ছেড়ে যেতে হচ্ছে ওমকে।

LEAVE A REPLY