• ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যে বিশ্বের অন্যতম বড় সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র কাজ শুরু করেছে। সম্প্রতি আদানি গ্রিন এনার্জি লিমিটেড তাদের পরিচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রটির কার্যক্রম শুরু হওয়ার ঘোষণা দেয়। প্রায় ২ হাজার ৫শ’ একর জায়গা জুড়ে নির্মিত এই সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৬শ’ ৪৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হবে বলে সংস্থাটির ধারণা।
রামানাথাপুরম জেলার কামুথি শহরে পরিবেশ বান্ধব বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়েছে। এখান থেকে উৎপাদিত সবুজ জ্বালানি অন্তত ৩ লাখ গৃহের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ করবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো।

দ্য ডেকান ক্রনিকলের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার ভিতের উপর সৌরপার্কটি দাঁড়িয়ে রয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যন্ত্রাংশ আনা হয়। সৌরপ্যানেল নির্মাণে যুক্ত করা হয় প্রায় ২৫ লাখ সৌর মডিউল, ১৫৪টি ট্রান্সফর্মার আর প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ তার।

পরিবেশ বান্ধব জ্বালানি উৎপাদন কেন্দ্রটি বিশ্বের জলবায়ুর ক্ষতিকর প্রভাব রোধে অনুকরণীয় হবে বলে মনে করছেন আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানি। তার মতে এই জ্বালানি ব্যবহারের মাধ্যমে ভারতবাসী যেমন উপকৃত হবেন তেমনই পরিবেশের কোনো ক্ষতি হবে না।

নরেন্দ্র মোদি ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ভারতের ক্ষমতাগ্রহণের পর এই বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। সৌর জ্বালানি উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ২০২২ সালের মধ্যে ১শ’ গিগাওয়াটে উন্নীত করার ঘোষণা দেন। যা আগের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৫ গুণ বেশি।

প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কর্মীর নিরলস পরিশ্রমে মাত্র ৮ মাসেই এই সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করা সম্ভব হয়। যদিও মাঝে মৌসুমী বৃষ্টি, বন্যা ও ঝড় এই মহাকার্যক্রমে বাঁধা হয়ে দাড়ায়।

বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মান কৌশল নিয়ে ন্যাট জিও (National Geographic Channel) মেগাস্ট্রাকচার নামে তথ্যচিত্রও নির্মাণ করে।

বর্তমানে কয়লার মতো ফসিল ভিত্তিক জ্বালানি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ বন্ধ করে দিয়েছে ভারত। ব্যবহারের জন্য বর্তমানে দেশটি নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকেই ঝুঁকেছে। যেমনটি ঝুঁকেছে বিশ্বের উন্নত দেশগুলো।