ভরা যৌবনা সুবলং ঝর্ণা: নেই পর্যটক

0
208
Smiley face

কলকল ঝর্ণার শব্দ ভেসে আসছে পাহাড়ে বুক চিরে। প্রায় ৩০০ ফুট উচ্চু পাহাড় থেকে আচরে পরছে এ ঝর্ণার পানি। বর্ষার কারণে এখন ভরা যৌবনা সুবলং ঝর্ণা। চারদিক ঘিরে রেখেছে সবুজ পাহাড়ের সমারোহ। মাঝখানে টলটলে কাপ্তাই হ্রদ। সেই হ্রদের ঘেষে পাহাড়ের কোল বেয়ে নেমে এসেছে অপূর্ব সুন্দরী সুবলং পাহাড়ি ঝর্ণা। তাকালেই দু’চোখ জুড়ে দৃষ্টি কাড়ে। একটা সময় এ ঝর্ণাধারার পানিতে গা ভিজিয়ে আনন্দে হারিয়ে যাচ্ছে ভ্রমণ পিপাসু নারী-পুরুষ। কিন্তু এখন ভিন্ন চিত্র। বর্ষাও আছে, ঝর্ণাও আছে, নেই পর্যটক। ঝর্ণা স্থলে নেই সে আগেরমত আনন্দ উৎসবের জোয়ার। পাহাড় ধস সব কেড়ে নিয়েছে। তাই নেমেছে পর্যটন শিল্পে ধ্বস। বিপাকে পরেছে পর্যটক সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। বেকার সময় পর করছে স্থানীয় ট্যুরিস্ট বোট চালকরাও।

জানা গেছে, রাঙামাটি শহর থেকে ১৫-১৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সুবলং ঝর্ণা। প্রত্যন্ত বরকল উপজেলার পাহাড়ি এলাকায় অবস্থান এ ঝর্ণার। দেশ-বিদেশে ব্যাপক পরিচিতির লাভ করেছে এ ঝর্ণা। এ পাহাড়ি ঝর্ণার শীতল ও চঞ্চলা জলধারা সকল পর্যটককেই কাছে টানে। তাই প্রতি বছর এ বর্ষা মৌসূমে দুর-দুরান্ত থেকে ছুঠে আসতো হাজার হাজার পর্যটক। কারণ ঝর্ণা পথে দেখা মিলে এলামেলো সারিতে সাজানো উঁচু-নিচু ছোট বড় অসংখ্য পাহাড়। যেদিকে চোখ যায় স্বচ্ছ পানি আর বিস্তীর্ণ সবুজের হাতছানি। দিগন্তজুড়ে বিস্তৃত সবুজের সমারোহ। যেন শৈল্পিক আঁকা দৃশ্য। আঁকাবাঁকা কাপ্তাই লেক। চারদিকেই স্বচ্ছ জলধারা। কাপ্তাই লেক মিশেছে প্রকৃতির সঙ্গে অপরূপ সাজে। দেখলে মনে হয় যেন কোন এক শিল্পী তার তুলিতে এঁকেছেন জীবন্ত এক চোখ জুড়ানো ছবি। তারই মধ্যে সবুজ পাহাড়ের বুক চিরে নেমে এসেছে সুবলং ঝর্ণা ধারা। এ ঝর্ণা ধারা দেখতে প্রতি বছর দূর-দুরান্ত থেকে ছুঠে আসতো হাজার হাজার পর্যটক। জমজমাট হয়ে উঠতো সুবল ঝর্ণা সাথে জড়িত ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো। কিন্তু এখন বর্ষার ভরা মৌসুমেও বেকার হয়ে পরেছে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা।
এ ব্যাপারে রাঙামাটি সুবলং ঝর্ণা স্পট ইজারাদার জয় চাকমা জানান, সম্প্রতি রাঙামাটিতে টানা বর্ষনে পাহাড় ধসের ঘটনায় তছনছ হয়ে যায় পুরো রাঙামাটি। ভেঙ্গে পরে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাও। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় রাঙামাটি। তাই পর্যটক আসা বন্ধ হয়ে যায় পাহাড়ে। বিশেষ করে বিরুপ প্রভাব পরেছে রাঙামাটি পর্যটন শিল্পের উপর। সুবলং ঝর্ণা স্পর্ট নিয়ে ব্যবসায়ীদের এখন মাথায় হাত। কর্মচারীদেও বেতন দেওয়ার মত টিকেট বিক্রি হয় না। স্থানীয় কিছু কিছু পর্যটক সুবল ঝর্ণা দেখতে আসলেও। আসছেনা দেশি-বিদেশী পর্যটকরা। তাই বেকার হয়ে গেছে হাজার হাজার বোট চালক।

LEAVE A REPLY