ব্রিটেনে নারী অধিকার কর্মীকে নিপীড়ন

হ্যাশট্যাগ মি টু ঝড়ে টালমাটাল গোটা বিশ্ব। হলিউড থেকে বলিউড সব জায়গায় স্বরব নারীরা। অভিযোগ করছেন পুরুষ সহকর্মী কিংবা পরিচিতজনদের বিরুদ্ধে।

এবার মি টুর অভিযোগ এনেছেন ব্রিটেনের মানবাধিকার কর্মী জাসব্দির সাংঘেরা। তার অভিযোগের তীর ব্রিটেনের হাউস অফ লর্ডসের সদস্য লর্ড লেস্টারের বিরুদ্ধে।

প্রখ্যাত এই মানবাধিকার কর্মীর অভিযোগ, ১২ বছর আগে তাকে শারীরিক সম্পর্কের কথা বলে ‘ব্যারোনেস’ উপাধি দেয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন ওই লর্ড।

কেবল যৌন হয়রানি করেই ক্ষান্ত হননি লেস্টার। পাশাপাশি তার সঙ্গে বিছানা শেয়ার করতে বলেছিলেন। তা না হলে এর ফলাফল ভয়াবহ হবে বলে হুমকিও দিয়েছিলেন লেস্টার।

ব্রিটেনের পার্লামেন্টারি তদন্তে এ অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।

অভিযোগকারী নারী সাংঘেরা জনপ্রিয় লেখক এবং কার্মা নির্ভানা চ্যারিটির প্রতিষ্ঠাতা। নারীদের জোরপূর্বক বিয়ের বিরুদ্ধে মূলত প্রচারণা চালান তিনি।

অভিযোগের বর্ণনায় সাংঘেরা জানান, ১২ বছর আগে লেস্টারের সঙ্গে আইনের খসড়া নিয়ে কাজ করছিলেন তিনি। একদিন পার্লামেন্টের বৈঠক শেষ হতে অনেক রাত হয়ে যাওয়ায় তিনি শেষ ট্রেনটি মিস করেন।

লেস্টার তাকে বাড়িতে পৌঁছে দেয়ার প্রস্তাব দিলে তিনি গাড়িতে ওঠেন। সামনে ড্রাইভার আর পেছনে তারা দুজন ছিলেন। এসময় লেস্টার তার শরীরের স্পর্শকাতর অঙ্গে ক্রমাগত স্পর্শ করতে থাকেন। বারবার প্রতিবাদ করেও কোনো লাভ হয়নি।

এরপর তাকে বাসায় নিয়ে যান লেস্টার। সেখানে তার স্ত্রী ছিলেন। কিন্তু পরদিন সকালে লেস্টারের স্ত্রী অফিসে চলে গেলে তাকে নানাভাবে হয়রানি করেন লেস্টার এবং তার সঙ্গে বিছানায় যাওয়ার আমন্ত্রণ জানান।

সাংঘেরাকে লেস্টার প্রস্তাব দেন, যদি তিনি তার সঙ্গে যৌন মিলন করেন, তবে এক বছরের মধ্যে তাকে ‘ব্যারোনেস’ বানিয়ে দেবেন লেস্টার। আর যদি তা না করেন, তবে হাউস অফ লর্ডসে যাতে কোনোদিন কোনো আসন না পান, সেটা নিশ্চিত করবেন।

সাংঘেরা জানান, এই ঘটনা তাকে ভীষণভাবে বিধ্বস্ত করলেও কাউকে জানাতে সাহস পাননি, কেননা, তার ধারণা ছিল, লেস্টার উচ্চ পদস্থ এবং মান-মর্যাদায় তার অবস্থান উঁচুতে হওয়ায় অভিযোগগুলো কেউ বিশ্বাস করবে না।

কিন্তু পরে তার মনে হয়েছে এই কথাগুলো সবার জানা দরকার। তাই ২০১৭ সালে লেস্টারের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন তিনি।

অভিযুক্ত লেস্টারের বয়স এখন ৮২ বছর। সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। পার্লামেন্টারি কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত তাকে পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হবে।

আধুনিক ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ইতিহাসে এর আগে এত দীর্ঘ সময়ের জন্য কাউকে অব্যাহতি দেয়া হয়নি।