বৈশ্বিক চাপেও থামেনি মিয়ানমার

0
287
print
নানামুখী আন্তর্জাতিক চাপের মুখেও থামছে না মিয়ানমার। দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর বীভৎস হত্যা আর ধ্বংসযজ্ঞ থেকে প্রাণ বাঁচাতে গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত চার লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।
সিএনএন গত বৃহস্পতিবার জানায়, রোহিঙ্গাদের বাস্তব অবস্থা দেখতে বৃহস্পতিবার মিয়ানমারে প্রতিনিধিদল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে রাখাইন রাজ্য সরকারের সচিব টিম মং সুয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে গতকাল জানান, মার্কিন উপসহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্যাট্রিক মার্ফিকে রাখাইনের সহিংসতাকবলিত এলাকাগুলোতে যেতে দেওয়া হবে না। তিনি শুধু ইয়াঙ্গুন গিয়ে স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চিসহ অন্য সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। রাখাইনের রাজধানী সিত্তে গিয়ে গভর্নরের সঙ্গেও বৈঠক করবেন।
ওয়াশিংটনে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত অং লিনকে বৃহস্পতিবার তলব করেন প্যাট্রিক মার্ফি। এ সময় অং লিনকে জানানো হয়, রাখাইনের গ্রামগুলোতে হামলাসহ সেখানকার সহিংসতায় যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এ সময় প্যাট্রিক মার্ফি বলেন, মিয়ানমারের প্রকাশ্যে স্বীকার করা উচিত রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে পালিয়ে গেছে। বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের মিয়ানমার ফিরিয়ে নেবে।
রাখাইনের সহিংসতা নিয়ে অন্য দেশগুলোকে নাক গলানোর বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছে রাশিয়া। মস্কো মনে করে এটা মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয়। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভার বরাত দিয়ে দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা স্পুটনিক শুক্রবার এ কথা জানায়।
জাখারোভা গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটা বোঝা খুব গুরুত্বপূর্ণ যে একটি সার্বভৌম দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করা হলে তাতে করে আন্তধর্মীয় সংঘাতের আরও অবনতি হতে পারে। আমি জোর দিয়ে বলছি, মিয়ানমারে সব ধর্মের নেতাদের নিয়ে আন্তধর্মীয় সংলাপের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, আমরা তাকে স্বাগত জানাই।’
রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, মিয়ানমারে অভ্যন্তরীণভাবে যারা বাস্তুচ্যুত হয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ তাদের বাড়িঘরে ফিরিয়ে নেওয়ার পদক্ষেপ নিচ্ছে। এই সংকটে অন্য যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের ক্ষেত্রেও একই রকম পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
রাখাইনে সহিংসতার জন্য মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যা, জাতিগত নিধন ইত্যাদি অভিযোগ ক্রমশ জোরের সঙ্গেই বলছে জাতিসংঘ, ইউরোপীয় পার্লামেন্ট, ওআইসি ছাড়াও বিভিন্ন দেশ। এরপরও সহিংসতা বন্ধ করছে না মিয়ানমার। উল্টো জাতিগত নিধনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করছে।

LEAVE A REPLY